How to stop throat irritation: লেবু, তেঁতুল নয়! কচু খেয়ে গলা চুলকালে ঝটপট কীভাবে মিলবে স্বস্তি? রইল নতুন ঘরোয়া টোটকা
Home Remedies For Throat Irritation: অনেকেই গলা চুলকালে অম্লজাতীয় খাবার যেমন লেবু বা তেঁতুলের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সবসময় হাতের কাছে লেবু বা তেঁতুল নাও থাকতে পারে, কিংবা অম্লের কারণে অনেকের গ্যাসের সমস্যাও হতে পারে। জানেন কি, লেবু বা তেঁতুল ছাড়াও কয়েকটি সহজ ও দ্রুত ঘরোয়া উপায়ে কচুর এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব?

কচু দিয়ে তৈরি যেকোনও সুস্বাদু পদ বাঙালির অত্যন্ত প্রিয়। কচু শাক, কচুর মুখি কিংবা ভাপা কচু—নাম শুনলেই জিভে জল আসে। কিন্তু এই কচু খাওয়ার প্রধান সমস্যা হল এর থেকে হওয়া অস্বস্তিকর গলা চুলকানি বা ‘গলা ধরা’। অনেক সময় কচু খাওয়ার পর গলায় এমন তীব্র খসখসে অনুভূতি বা চুলকানি শুরু হয় যে অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
সাধারণত অনেকেই গলা চুলকালে অম্লজাতীয় খাবার যেমন লেবু বা তেঁতুলের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সবসময় হাতের কাছে লেবু বা তেঁতুল নাও থাকতে পারে, কিংবা অম্লের কারণে অনেকের গ্যাসের সমস্যাও হতে পারে। জানেন কি, লেবু বা তেঁতুল ছাড়াও কয়েকটি সহজ ও দ্রুত ঘরোয়া উপায়ে কচুর এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব?
কেন কচু খেলে গলা চুলকায়? কচুর মধ্যে থাকে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ (Calcium Oxalate) নামক একটি রাসায়নিক উপাদান। এটি ছোট ছোট সুঁচের মতো ক্ষুদ্র স্ফটিক বা ক্রিস্টাল আকারে থাকে। রান্নার সময় যদি কচু সঠিকভাবে সেদ্ধ না হয় বা এতে থাকা ক্যালসিয়াম অক্সালেট ভেঙে না যায়, তবে খাওয়ার সময় সেই সূক্ষ্ম স্ফটিকগুলো গলার ভেতরের কোমল চামড়ায় গিয়ে বিঁধে যায়। এর ফলেই শুরু হয় তীব্র খসখসে ভাব ও চুলকানি।
১. গলা চুলকানি শুরু হলেই এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ গরম জলে আধা চামচ নুন মিশিয়ে ভালো করে কুলকুচি (Gargle) করুন। নুন-জল গলার প্রদাহ ও চুলকানি কমায় এবং ক্যালসিয়াম অক্সালেটের প্রভাব দ্রুত নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে।
২. গলায় অস্বস্তি হলে এক চামচ খাঁটি মধু আস্তে আস্তে গিলে খান। মধু গলার ভেতরের আস্তরণে এক ধরণের প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ তৈরি করে এবং এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান গলার জ্বলুনি ও খসখসে ভাব থেকে দ্রুত আরাম দেয়।
৩.দুধ বা দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম গলার ভেতর আটকে থাকা অক্সালেট ক্রিস্টালের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তার ধার কমিয়ে দেয়। তাই কচু খেয়ে গলা ধরলে এক ঘোঁট ঠান্ডা দুধ বা সামান্য মিষ্টি/টক দই খেলে সঙ্গে সঙ্গে সুফল পাওয়া যায়।
৪. কচু সেদ্ধ করার সময় জলে সামান্য ভিনেগার বা রান্নার আগে কচুতে সরিষার তেল মাখিয়ে নিলে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের তীব্রতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।
তাই এবার থেকে কচু খাওয়ার পর গলায় অস্বস্তি হলে প্যানিক না করে বা শুধু লেবু-তেঁতুলের ওপর ভরসা না রেখে হাতের কাছে থাকা এই সহজ উপাদানগুলো ব্যবহার করে দেখুন, নিমেষেই মিলবে স্বস্তি!
