
প্রতিটা মানুষের অনুভূতি প্রকাশের ধরণ আলাদা। কেউ মনের কথা বলে হালকা হতে ভালবাসে , আবার কেউ খুব কম কথা বলে সব অনুভূতি নিজের মধ্যেই রাখে। অনেক সম্পর্কেই তাই প্রশ্ন ওঠে কম কথা বলা পার্টনার কে কি আদৌ বোঝা যায়? ভাবেন এই নীরবতা থেকে দূরত্ব আসবে না তো? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
কম কথা বলা মানেই কি উদাসীন?
‘APA – Introversion & Personality Research’ এর তথ্য অনুযায়ী মনোবিদদের মতে, ব্যক্তিত্বের ধরন অনুযায়ী অনেক মানুষ ইন্ট্রোভার্ট হন। তাঁদের অনুভূতি কম নয়, তবে তাঁরা কম প্রকাশ করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ইন্ট্রোভার্ট মানুষরা কথার চেয়ে আচরণ ও কাজের মাধ্যমে ভালবাসা প্রকাশ করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
আপনি কি আপনার কম কথা বলা জীবনসঙ্গীকে একেবারেই বুঝতে পারেন না? লক্ষ্য করুন কিছু বিষয় –
তিনি কি আপনার কাজে সাহায্য করেন? অসুস্থ হলে খোঁজ নেন? আপনার পছন্দ-অপছন্দ মনে রাখেন?’ Gottman Institute – Relationship Behaviour Studies’ এর রিসার্চ অনুযায়ী এই ছোট ছোট কাজই অনেক সময় ভালবাসার বড় প্রমাণ। হয়ত আপনার জীবনসঙ্গী এই ভাবেই আপনার কাছে নিজের ভালবাসা প্রকাশ করেন।
তবে এই কথা কম বলার পিছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন মনোবিদরা। অনেক সময় অতীতের সম্পর্কের আঘাত, ছোটবেলার ট্রমা, ভুল বোঝাবুঝির ভয়েতে কথা কম বলেন অনেকেই
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রজত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে “অনেক মানুষ মনের কথা বলতে চান, কিন্তু ওপর পক্ষের রিয়্যাকশন কেমন হবে সেটা ভেবেই চুপ করে থাকেন।”
ভালোবাসার মানুষটিকে বোঝার জন্য কি কি করবেন?
NHS – Healthy Relationship Communication Guide এ মনোবিদদের মতামত অনুযায়ী জোর করে কথা বলাতে যাবেন না, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন, অভিযোগ না করে বুঝে ভালবেসে কথা বলুন,ধৈর্য ধরুন, আপনার সঙ্গীকে তাঁর নিজের কথা বলার সময় দিন।
তবে যদি দেখেন আপনার সঙ্গী একেবারেই যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন, অনুভূতির কোনও প্রকাশ করছেন না, আপনার কথায় কোনও প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন না তাহলে সেটা অনেক সময় সম্পর্কে সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমতাবস্থায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।