রিলস থেকে পিকনিক: পৌষ পার্বণে ‘জেন-জে’ ম্যাজিক
২০২৬-এর আধুনিক ডিজিটাল যুগে এসেও মকর সংক্রান্তির জৌলুস বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং ‘ইয়ং বেঙ্গল’-এর হাতে পড়ে তা পেয়েছে নতুন এক মাত্রা। স্মার্টফোনের স্ক্রিন আর ঐতিহ্যের মিশেলে আজ এক অন্যরকম সংক্রান্তি দেখছে বাংলা।

আগেকার দিনে মকর সংক্রান্তি মানেই ছিল ভোরের আজান বা শঙ্খধ্বনি শুনে স্নান সেরে দিদিমা-ঠাকুমাদের তৈরি পিঠে-পুলির স্বাদ নেওয়া। সময় বদলেছে, বদলেছে উদযাপন। ২০২৬-এর আধুনিক ডিজিটাল যুগে এসেও মকর সংক্রান্তির জৌলুস বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং ‘ইয়ং বেঙ্গল’-এর হাতে পড়ে তা পেয়েছে নতুন এক মাত্রা। স্মার্টফোনের স্ক্রিন আর ঐতিহ্যের মিশেলে আজ এক অন্যরকম সংক্রান্তি দেখছে বাংলা।
আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে সংক্রান্তি মানে শুধু খাওয়া নয়, সেই খাবারের শৈল্পিক উপস্থাপনাও। সকাল থেকেই ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের দেওয়ালে জায়গা করে নিয়েছে ধোঁয়া ওঠা নলেন গুড়ের পায়েস বা পাটিসাপটার ছবি। ঘরোয়া উৎসব এখন কেবল অন্দরে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ফুড ভ্লগ’-এ।
সংক্রান্তির বিকেলে কলকাতার আকাশ জুড়ে এখন রঙের মেলা। আধুনিক প্রজন্মের কাছে ঘুড়ি ওড়ানো এক বড় আকর্ষণ। তবে এখন আর শুধু মাঞ্জা আর ভো-কাট্টা নয়, ছাদের আড্ডায় যোগ হয়েছে পোর্টেবল স্পিকার আর গানের তালে পা মেলানো। বন্ধুর সঙ্গে ঘুড়ি কাটার লড়াইয়ের ফাঁকেই চলছে স্লো-মোশন ভিডিও আর সেলফি। গোধূলি বেলায় লণ্ঠন বা ফানুস ওড়ানো যেন এই উদযাপনে এনে দিয়েছে এক মায়াবী ছোঁয়া। এমনকী, জেন জি-রা ছুটছেন, পিকনিকেও।
গঙ্গাসাগর থেকে ইকো পার্ক। এ যেন সংক্রান্তির ডেস্টিনেশন সেলিব্রেশন। শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে নয়, অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরাতে অনেক তরুণ-তরুণী এখন পাড়ি দিচ্ছেন গঙ্গাসাগরে। ভিলেজ ট্যুরিজম বা ক্যাম্পিং-এর টানে সাগরতটে নাগা সাধুদের জীবন দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন কলেজের পড়ুয়ারা। আবার যাঁরা দূরে যেতে পারছেন না, তাঁদের কাছে নিউটাউনের ইকো পার্ক বা গঙ্গার ঘাটগুলো হয়ে উঠেছে পিকনিকের সেরা জায়গা।
সংক্রান্তির ভোরে ঠান্ডা জলে স্নান করার সাহস হয়তো সবার নেই, কিন্তু ঐতিহ্যের প্রদীপ জ্বালিয়ে আধুনিক বাংলার তরুণ সমাজ প্রমাণ করে দিচ্ছে— “পুরনো চাল ভাতে বাড়ে।”
