AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Smart tattoo ink: ট্যাটু করাবেন, অথচ চিরস্থায়ী দাগের ভয়? চড়া রোদে বেরলোই এই ট্যাটু হয়ে যাবে গায়েব

UV tattoo ink: সারা জীবনের জন্য ত্বকে দাগ বসে যাওয়ার ভয়ে ট্যাটু করানো থেকে পিছিয়ে আসেন অনেকেই। লেজার দিয়ে তোলার খরচ আর কষ্টও মারাত্মক। কিন্তু যদি এমন হয় যে রাতের বেলা ট্যাটু করালেন, আর সকালে রোদে বেরোলেই তা একেবারে ভ্যানিশ! জাদুর মতো মনে হলেও এমনই এক 'ম্যাজিক কালি' আবিষ্কার করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা। কীভাবে কাজ করে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি? জানলে চমকে যাবেন।

Smart tattoo ink: ট্যাটু করাবেন, অথচ চিরস্থায়ী দাগের ভয়? চড়া রোদে বেরলোই এই ট্যাটু হয়ে যাবে গায়েব
জানুন বিস্তারিতImage Credit: Credit: Olga Pankova/Moment/Getty Images
| Updated on: Oct 12, 2026 | 4:31 PM
Share

ট্যাটু করার দারুণ শখ? কিন্তু সারা জীবনের জন্য ত্বকে দাগ বসে যাবে, এই ভেবেই পিছিয়ে আসেন অনেকে। আবার লেজার দিয়ে ট্যাটু তোলার বিপুল খরচ আর ব্যথা, দুটোই বেশ ভয়ের। কিন্তু একটু ভাবুন তো, যদি এমন হয় যে রাতের পার্টির জন্য সুন্দর একটা ট্যাটু করালেন, আর পরের দিন সকালে তা একেবারে গায়েব হয়ে গেল! একেবারে জাদুর মতো শুনতে লাগলেও, বিজ্ঞানীরা ঠিক এমনই এক যুগান্তকারী কালি আবিষ্কার করে ফেলেছেন।

ঠিক কী আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা?

এই নতুন প্রযুক্তির নাম ‘ফোটোট্যাট’ (PhotoTat)। কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক কার্সন ব্রুনস এবং তাঁর দল এই বিশেষ কালি তৈরি করেছেন। এটি সাধারণ কোনও কালি নয়, একেবারে স্মার্ট কালি! আলোর তরঙ্গের ওপর নির্ভর করে এটি নিজের রং বদলাতে পারে। এর ওপর অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি আলো পড়লে নকশাটি ফুটে ওঠে। আবার কড়া রোদে গেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা উধাও হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, কালিটি কিন্তু ত্বক থেকে চিরতরে মুছে যায় না, শুধু চোখের সামনে থেকে লুকিয়ে যায়।

মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, সূর্যের আলোতেও তো ইউভি রশ্মি থাকে, তাহলে রোদে গেলে ট্যাটু মুছে যায় কেন? লাইভ সায়েন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ফোটোট্যাট কালিতে মূলত নীল, ম্যাজেন্টা এবং হলুদ রঙের বিশেষ ফোটোক্রোমিক ডাই ব্যবহার করা হয়েছে। এই ডাই একটি নির্দিষ্ট আলোর তরঙ্গে (৩৬৫ ন্যানোমিটার) নিখুঁত প্রতিক্রিয়া দেখায়। ইউভি এলইডি লাইট থেকে ঠিক ওই নির্দিষ্ট তরঙ্গ পড়লেই কালির আণবিক বা মলিকিউলার কাঠামো বদলে গিয়ে রং ফুটে ওঠে। কিন্তু সূর্যের আলো হল বিভিন্ন তরঙ্গের এক বিশাল মিশ্রণ। এতে ইউভি রশ্মির পাশাপাশি প্রচুর তাপ এবং দৃশ্যমান সাদা আলো থাকে। সূর্যের এই তীব্র এবং বহুমাত্রিক আলো কালির নির্দিষ্ট কাঠামোকে ধরে রাখতে দেয় না, ফলে তা দ্রুত অদৃশ্য রূপে ফিরে যায়।

এই ডাইগুলি পিএমএমএ (PMMA) নামের এক নিরাপদ প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার ভেতর আটকে থাকে। ঘরের সাধারণ আলোয় এই ট্যাটু কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত দিব্যি দেখা যায়। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ত্বকের ভেতর প্রায় ১.৪ থেকে ২.২ বছর পর্যন্ত এই কালি রং বদলানোর ম্যাজিক দেখাতে পারে। সাধারণ কালির সঙ্গেও একে মেশানো যায়, যা শুধু বিশেষ আলোতেই ফুটে উঠবে।

যাঁরা শরীরে স্থায়ী ট্যাটু করতে ভয় পান, তাঁদের জন্য এটি দারুণ বিকল্প। পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানেও এই আবিষ্কার বড়সড় বদল আনতে পারে। ক্যানসারের রেডিয়েশন থেরাপির সময় রোগীর শরীরে নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করতে এই কালি ব্যবহার করা যেতে পারে, যা পরে সহজেই অদৃশ্য করে দেওয়া যাবে।

আপাতত এই ফোটোট্যাট প্রযুক্তির বেগুনি রঙের কালিটি বাজারে এসেছে। তৃতীয় পক্ষের কড়া মেডিক্যাল পরীক্ষার পরেই এটি ব্যবহারের ছাড়পত্র পেয়েছে। এর ছোট একটি বোতলের দাম পড়বে প্রায় ১০০ ডলার। আগামী দিনে আরও নানা রং বাজারে আনার চেষ্টা চলছে। এই গবেষণা পুরোপুরি সফল হলে, ট্যাটুর দুনিয়ায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

Follow Us