আপনি কি মাছপ্রেমী? পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ এই মাছটিকে বাদ দিচ্ছেন না তো?
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কাচকি মাছের ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও জিঙ্ক রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । বিশেষজ্ঞদের মতে, বেড়ে ওঠার সময় নিয়মিত ছোট মাছ খেলে হাড়, দাঁত ও মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাজারে গেলেই বেশি কোন মাছের দিকে ঝোঁকেন বলুল তো? ইলিশ, রুই, কাতলা বা ভেটকি বা যখন যে মাছ মেলে। তাই তো? কিন্তু জানেন অনেকেই এক পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোট মাছকে একেবারেই পাত্তা দেন না। আর সেই মাছ হল কাচকি । কম দামী এই মাছকে অনেকেই অবহেলা করেন ঠিকই, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে গুণের দিক থেকে এই মাছ কোনও অংশেই বড় মাছের চেয়ে কম নয়।
খুব ছোট আকারের হলেও কাচকি মাছের পুষ্টিগুণ শুনলে এক্কেবারে চমকে যাবেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১০০ গ্রাম কাচকি মাছে প্রায় ১২–১৩ গ্রাম প্রোটিন, সঙ্গে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন যা হাড় মজবুত রাখা থেকে শুরু করে শরীরের শক্তি বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যেহেতু এই মাছটি অনেক সময় কাঁটা-সহ খাওয়া হয়, তাই ক্যালসিয়ামের জোগান আরও ভালোভাবে শরীরে পৌঁছায়। এই মাছ চলতি কথা “ছোটা প্যাকেট বড়া ধামাকা”-র জীবন্ত উদাহরণ।
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কাচকি মাছের ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও জিঙ্ক রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । বিশেষজ্ঞদের মতে, বেড়ে ওঠার সময় নিয়মিত ছোট মাছ খেলে হাড়, দাঁত ও মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
হার্ট ভালো রাখার ক্ষেত্রেও কাচকি মাছের অবদান অনস্বীকার্য। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে । পাশাপাশি এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরিযুক্ত, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।
চোখের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কাচকি মাছ কার্যকরী। এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত খেলে রাতকানা বা চোখের দুর্বলতার আশঙ্কা কমতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা দাম কম হলেও গুণে কোনও আপস নেই। বড় মাছের তুলনায় কাচকি সহজলভ্য, রান্নাও সহজ এবং গ্রাম-শহর সব জায়গাতেই মেলে এই মাছ। ভাজা, চচ্চড়ি, ঝোল বা শুকনো ভর্তা নানান পদে এই মাছের স্বাদ মন ভোলাবে আপনার। অর্থাৎ, পুষ্টি, স্বাদ ও সাশ্রয় সব দিক থেকেই কাচকি মাছ হতে পারে প্রতিদিনের খাবারের এক স্মার্ট পছন্দ।
