AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

WHAT BENGAL THINKS TODAY EXCLUSIVE: ‘এরপর ভোটের দায়িত্ব সামলাতে বলবে না তো…’, জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগে বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন বিচারপতি বসু

WHAT BENGAL THINKS TODAY: "আজ এসআইআর-এর জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করার পর সমস্ত জেলা আদালত প্রায় বন্ধ। ধরুন, আপনার একটা অন্তবর্তীকালীন নির্দেশ দরকার, কিন্তু আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো এক-দু'মাস আদালত বন্ধ। যদি আমাদের এটাই অ্যাপ্রোচ হয়, ২-৪ দিন আদালত বন্ধ থাকলে, কোনও অসুবিধা নেই, কারণ এখন আদালত বলতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট, সেটাও কেবলমাত্র রাজনৈতিক ও স্পর্শকাতর মামলাগুলোর জন্য।"

WHAT BENGAL THINKS TODAY EXCLUSIVE: 'এরপর ভোটের দায়িত্ব সামলাতে বলবে না তো...', জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগে বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন বিচারপতি বসু
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুImage Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Feb 27, 2026 | 10:21 PM
Share

কলকাতা: ‘SIR’ এই গোটা পর্বে বাংলা সাক্ষী থেকেছে একাধিক ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনাপ্রবাহের। দুটো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের মতের বিস্তর অমিল, অবিশ্বাসের জায়গা, আর তাতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, সর্বোপরি একটা ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি অর্ডার’! এসআইআর-এ ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির’ সমাধানে নিয়োজিত জুডিশিয়াল অফিসাররা। আর তাতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালতগুলোর এজলাস এখন স্তব্ধ। শুনানি তারিখ পিছোচ্ছে, সাক্ষীরা এসে ফেরত যাচ্ছেন, শুনানির পরবর্তী দিন অনিশ্চিত, স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে বিচারপ্রক্রিয়া, সমস্যায় পড়ছেন বিচারপ্রার্থীরা। আর সেক্ষেত্রে দায় কার? এটা কি প্রত্যাশিত? এটা কি বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়? ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট SIR-এর কাজে জুডিশিয়ার অফিসারদের নিয়োগ করতে বাধ্য হল? ‘হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস্ টুডে’-তে অতি সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে চর্চিত এসআইআর পর্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে এক আলোচনাসভায় এই দিক তুলে ধরতে গিয়ে এমনই এক গুচ্ছ প্রশ্নের উত্থাপন করলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

এসআইআর-এর কাজে বিচারকদের নিয়োগের পর রাজ্যে বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলেন, “আজ এসআইআর-এর জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করার পর সমস্ত জেলা আদালত প্রায় বন্ধ। ধরুন, আপনার একটা অন্তবর্তীকালীন নির্দেশ দরকার, কিন্তু আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো এক-দু’মাস আদালত বন্ধ। যদি আমাদের এটাই অ্যাপ্রোচ হয়, ২-৪ দিন আদালত বন্ধ থাকলে, কোনও অসুবিধা নেই, কারণ এখন আদালত বলতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট, সেটাও কেবলমাত্র রাজনৈতিক ও স্পর্শকাতর মামলাগুলোর জন্য।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু যখন এসব প্রশ্নের উত্থাপন করেছেন, তখন আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারও।  রাজ্যে যে এই মুহূর্তে জেলা আদালতগুলিতে মামলার তুলনায় বিচারকদের সংখ্যা অত্যন্ত কম, কোর্টরুমে ফাইলের পর ফাইল জমতে থাকে, পিছোতে থাকে শুনানির দিন, সে পরিস্থিতির কিছুটা আভাস অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মুখেও শোনা গেল। তিনি বললেন, “আমাদের বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ বন্ধ। এই মুহূর্তে জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদায় প্রায় ৩০০ জন রয়েছেন। তার থেকে ২৪০ জন ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর কাজে নিয়োজিত হয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে।” কিন্তু সুপ্রিম কোর্টকে কেন এই নির্দেশ দিতে হল?

কথা প্রসঙ্গে সে উত্তরও দেন বিচারপতি। তাঁর মতে, “সুপ্রিম কোর্টে কেবল দুটো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসের সংঘাত হল। সুপ্রিম কোর্ট দেখছে, কমিশন অফিসার চাইছে, কিন্তু রাজ্য যে অফিসার দিচ্ছে, তাতে সন্তুষ্ট হচ্ছে না।” আর তাতেই তাঁর প্রশ্ন, “তাহলে কি ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো!” আর সেখানেই যে বিচারব্যবস্থার স্বতন্ত্রতা প্রশ্নের মুখে পড়ল, সেই বলতে চাইলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

আর সেক্ষেত্রে তাঁর আশঙ্কা, “এটা কি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে, কাল জুডিশিয়াল অফিসারদের বলা হবে না, ভোটের দায়িত্ব গিয়ে সামলাও!” তাঁর কথায়, “জুডিশিয়ারির কাজ হচ্ছে, লেজিলেচার যে আইন করেছে, তার প্রয়োগগত ক্ষেত্রে কোনওরকম বেআইনি কিছু হল কিনা!”

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর কথায়, “যদি ডিটেইলে যাওয়া যায়, SOP যা বলা হয়েছে, যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা যায়, প্রশ্নের মুখে পড়বে কর্তৃপক্ষ, যা প্রত্যাশিত নয়।” ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বাংলার মানুষের কাছেই একটা প্রশ্ন ছুড়ে দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি বলেন, “এখন SIR যজ্ঞের কাজে সমস্ত জেলা আদালত বন্ধ, এটা কি প্রত্যাশিত? এটা কি বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়? সুপ্রিম কোর্ট একটা পিকিউলার পরিস্থিতিতে এটা করতে বাধ্য হয়েছে, যেটা কাম্য নয়।” যদিও কথা শেষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এটাও স্পষ্ট করেছেন, এই মতামত একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত।

এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। দুটো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের মতের অমিল, বিশ্বাসের জায়গায় ঘাটতি, আর তাতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ- তাঁর মতে, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা, এই বৃহৎ স্বার্থেই এটা করতে হয়েছে। তবে আগামী দিনে হয়তো এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না আদালতকে। তাঁর কথায়, “এটা একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি সিচুয়েশন, বিশ্বাসে কোথাও ঘাটতি পড়েছে, তাই এটা হয়েছে। একজন মানুষের ভোটাধিকার রয়েছে, সেটা যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে সেই অধিকার রক্ষার একটা দায়িত্ব রয়েছে। সেই সমস্যা সমাধানেই বিচারকদের নিয়োগ করা হয়েছে। তাহলে অন্যান্য বিচারকদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। আমার মনে হয় আগামী দিনে আদালতকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।”