
মাসিক এক-দুদিন দেরি হলেই অনেকের মনে আতঙ্ক কাজ করে। মাসিক দেরি হওয়া মানেই কি বিপদ সংকেত? চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে বলছেন— সব ক্ষেত্রে দেরির অর্থ গর্ভধারণ বা গুরুতর অসুখ নয়। আধুনিক জীবনযাপনের নানা পরিবর্তনই মাসিক চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্ক ও ডিম্বাশয়ের হরমোনের সূক্ষ্ম সমন্বয়ে। হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি গ্রন্থি এবং ডিম্বাশয় এই তিন স্তরের হরমোন একসঙ্গে কাজ করে।
কী কী কারণে পিরিয়ড দেরিতে হতে পারে?
আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস (ACOG) জানাচ্ছে, মানসিক চাপ বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ডিম্বস্খলন বিলম্বিত করতে পারে। ডিম্বস্খলন দেরি হলে স্বাভাবিকভাবেই পিরিয়ডও পিছিয়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাব হলে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ওঠানামায় প্রভাব পড়ে। একাধিক চিকিৎসা গবেষণায় উঠে এসেছে রাত জাগা বা অনিয়মিত শিফটে কাজ করা মহিলাদের মধ্যে মাসিক অনিয়ম বেশি দেখা যায়।
ওজনের হঠাৎ পরিবর্তনও বড় কারণ । চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, খুব দ্রুত ওজন কমে গেলে প্রজনন প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিতে পারে। আবার অতিরিক্ত শরীরের চর্বি ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে পিরিয়ডকে অনিয়মিত করতে পারে।
অতিরিক্ত কঠোর শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায় বিশেষ করে কম ক্যালোরির খবর খাওয়া ও অতিরিক্ত ব্যায়াম একসঙ্গে চললে ডিম্বস্খলন বন্ধ হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর জরুরি। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও গুড ফ্যাটের অভাব হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন অপুষ্টি থাকলে মাসিক চক্র দীর্ঘ বা অনিয়মিত হতে পারে।
তবে কতটা দেরি স্বাভাবিক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে মাসিক হওয়া স্বাভাবিক ধরা হয়। মাঝেমধ্যে কয়েকদিন এদিক-ওদিক হলে তা উদ্বেগের কারণ নয়। কিন্তু টানা দুই-তিন মাস বড় ধরনের অনিয়ম হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।