AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

সকালে, দুপুরে নাকি রাতে? ঠিক কখন স্নান করলে শরীর থাকবে ভালো জেনে নিন

ঋগ্বেদ থেকে শুরু করে প্রাচীন আয়ুর্বেদ- ভারতীয় শাস্ত্রে সকালের স্নানকে বরাবরই শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। ভারতে স্নানকে শুধু শরীর পরিষ্কার করা নয়, একে দেখা হয় আত্মিক শুদ্ধি হিসেবে। সকালে স্নান করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, আলস্য কেটে গিয়ে এক নিমেষে এনার্জি চলে আসে। বিশেষ করে ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ঘাম আর গরম থেকে বাঁচতে সকালের স্নানটাই মুক্তির পথ।

সকালে, দুপুরে নাকি রাতে? ঠিক কখন স্নান করলে শরীর থাকবে ভালো জেনে নিন
| Updated on: Mar 04, 2026 | 5:37 PM
Share

সকাল সকাল স্নান সেরে দিন শুরু করা আমাদের ভারতীয়দের মজ্জায়। অফিস যাওয়ার আগে হোক বা পুজোর আগে- শাওয়ারের নিচে না দাঁড়ালে যেন দিনটাই শুরু হয় না। কিন্তু জানেন কি, আমাদের ঠিক উল্টো পথে হাঁটে চিন, জাপান বা কোরিয়ার মানুষরা? আমাদের কাছে যা ‘মর্নিং রিচুয়াল’, ওদের কাছে সেটাই দিনের শেষ আরাম। কিন্তু কেন এই বৈপরীত্য? আর বিজ্ঞানের হিসেবেই বা পাল্লা ভারী কোন দিকে?

ভারতের সনাতন প্রথা ও সকালের চনমনে ভাব

ঋগ্বেদ থেকে শুরু করে প্রাচীন আয়ুর্বেদ- ভারতীয় শাস্ত্রে সকালের স্নানকে বরাবরই শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। ভারতে স্নানকে শুধু শরীর পরিষ্কার করা নয়, একে দেখা হয় আত্মিক শুদ্ধি হিসেবে। সকালে স্নান করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, আলস্য কেটে গিয়ে এক নিমেষে এনার্জি চলে আসে। বিশেষ করে ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ঘাম আর গরম থেকে বাঁচতে সকালের স্নানটাই মুক্তির পথ।

রাত কেন পছন্দ চিন-জাপানের?

যদি একটু পূর্ব এশিয়ার দিকে তাকান, তবে ছবিটা একদম আলাদা। জাপান, চিন বা দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষরা সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর রাতে স্নান করাটাকেই সবথেকে জরুরি মনে করেন। এর পেছনে শুধু সংস্কৃতি নয়, বেশ কিছু যুক্তি কাজ করে।

টক্সিন মুক্তি: চিনা সংস্কৃতি অনুযায়ী, সারাদিনের ধুলোবালি, নেগেটিভ এনার্জি আর ক্লান্তি ধুয়ে ফেলতে রাতের স্নানই সেরা।

গভীর ঘুম: আবার জাপানিরা বিশ্বাস করেন, রাতে ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করলে শরীরের পেশি শিথিল হয়, যা ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা দূর করে।

পরিচ্ছন্ন বিছানা: সারাদিনের ঘাম গায়ে থাকলে বিছানায় যাওয়াকে তাঁরা অস্বাস্থ্যকর মনে করেন। বিছানা পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বকের যত্ন নিতেই তাদের এই ‘নাইট বাথ’ কালচার।

বিজ্ঞান কী বলছে? আসলে কোন সময় স্নান করা স্বাস্থ্যকর?

গবেষণা বলছে, উভয় সময়েরই নিজস্ব গুণ রয়েছে। যাঁরা সকালে স্নান করেন, তাঁদের ব্রেন দ্রুত ‘অ্যালার্ট’ মোডে চলে আসে। অন্যদিকে, ঘুমের অন্তত এক-দেড় ঘণ্টা আগে হালকা গরম জলে স্নান করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা ভালো ঘুমের জন্য অপরিহার্য।

আসলে স্নানের সময়টা নির্ভর করে জীবনযাত্রার ওপর। আপনি যদি সকালে কাজ শুরুর জন্য এনার্জি চান, তবে ভারতীয় প্রথাই সেরা। আর যদি মানসিক চাপ কাটিয়ে শান্তিতে ঘুমোতে চান, তবে জাপানিদের সময় ট্রাই করে দেখতেই পারেন। তবে আধুনিক লাইফস্টাইলে অনেকেই এখন দু’বেলা স্নান করাটাকেই বেছে নিচ্ছেন—সকালে চনমনে হতে আর রাতে ক্লান্তি দূর করতে।