Rice Cooking Tips: জেনে নিন কত কাপ চালে, কতটা জল দিলে হবে ঝুরঝুরে ভাত
How To Cook Fluffy Rice: চালের আন্দাজ ঠিক থাকলেও জল বেশি হয়ে ভাত গলে কাদা হয়ে গিয়েছে, কিংবা জল কম হওয়ায় চাল শক্ত রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে নতুন রাঁধুনিদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। কত কাপ চালে কতটা জল দিলে ভাত একদম ঝুরঝুরে ও পারফেক্ট হবে? রইল রান্নার সেই সহজ পরিমাপ ও কিছু জরুরি টিপস।

রান্নাঘরে প্রতিদিনের সবচেয়ে সহজ কাজ মনে হলেও, নিখুঁত ঝুরঝুরে ভাত রান্না করা কিন্তু একটা আর্ট। অনেকেই অভিযোগ করেন, চালের আন্দাজ ঠিক থাকলেও জল বেশি হয়ে ভাত গলে কাদা হয়ে গিয়েছে, কিংবা জল কম হওয়ায় চাল শক্ত রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে নতুন রাঁধুনিদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। কত কাপ চালে কতটা জল দিলে ভাত একদম ঝুরঝুরে ও পারফেক্ট হবে? রইল রান্নার সেই সহজ পরিমাপ ও কিছু জরুরি টিপস।
ভাত রান্নার প্রধান শর্ত হল চাল এবং জলের সঠিক অনুপাত। আপনি হাঁড়িতে ফ্যান (মাড়) গালিয়ে রান্না করুন কিংবা প্রেসার কুকার বা ইলেকট্রিক রাইস কুকারে—অনুপাত জানা থাকলে ভাত কখনই নষ্ট হবে না। যদি আপনি এমনভাবে ভাত রাঁধতে চান যেখানে জল ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং চাল পুরো জলটা টেনে নেবে, তবে অনুপাত হবে ১:২। ১ কাপ চালের জন্য ২ কাপ জল। যদি ২ কাপ চাল নেন, তবে জল লাগবে ৪ কাপ। এই পদ্ধতিতে ভাত ফুটে উঠলে গ্যাসের আঁচ একদম কমিয়ে ঢাকা দিয়ে দিতে হবে। জল শুকিয়ে গেলেই তৈরি ঝুরঝুরে ভাত।
প্রেসার কুকারে বাষ্প বাইরে বেরোতে পারে না, তাই এখানে জলের পরিমাণ সামান্য কম লাগে। এর অনুপাত হওয়া উচিত ১:১.২৫ বা সর্বোচ্চ ১:১.৫। ১ কাপ চালের জন্য সোয়া ১ কাপ (১ কাপ + ১ টেবিল চামচ) থেকে দেড় কাপ জল। চাল খুব পুরনো হলে দেড় কাপ জল দিন, নতুন চাল হলে সোয়া ১ কাপই যথেষ্ট। সাধারণত মাঝারি আঁচে ২টি সিটি দিলেই পারফেক্ট ভাত তৈরি হয়।
বাঙালি বাড়িতে সাধারণত হাঁড়িতে বেশি করে জল দিয়ে ফ্যান গালিয়ে ভাত রাঁধার চল বেশি। এই পদ্ধতিতে জলের কোনও কঠোর পরিমাপ নেই, তবে চালের চেয়ে জলের পরিমাণ অন্তত ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি হতে হবে। ১ কাপ চালের জন্য অন্তত ৪ থেকে ৫ কাপ জল দিতে হবে। যেন চালগুলো হাঁড়ির ভেতর ঠিকঠাক ফুটতে পারে।
শুধু জলের পরিমাপই শেষ কথা নয়, ভাতকে হোটেলের মতো ঝরঝরে করতে শেফরা কিছু ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করেন। রান্না করার আগে চাল ভালো করে ধুয়ে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে চালের অতিরিক্ত স্টার্চ বেরিয়ে যায় এবং ভাত লম্বা ও ঝরঝরে হয়।
ভাত যখন ফুটতে শুরু করবে, তখন ফুটন্ত জলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস অথবা এক চামচ সাদা তেল বা ঘি দিয়ে দিন। লেবুর রসের অ্যাসিড ভাতের দানাগুলোকে একে অপরের গায়ে লেগে যেতে দেয় না, ফলে ভাত ধবধবে সাদাও হয় আর ঝুরঝুরেও থাকে।
ফ্যান গালার পর বা কুকারের গ্যাস কমলে ভাতের হাঁড়ি সঙ্গে সঙ্গে শক্ত করে চেপে ঢাকা দিয়ে রাখবেন না। ঢাকনাটি সামান্য খোলা রাখুন যাতে ভেতরের অতিরিক্ত বাষ্প বা ময়েশ্চার বেরিয়ে যেতে পারে। বাষ্প জমে থাকলে ভাত নরম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এখন থেকে চাল মাপার জন্য ঘরে থাকা যেকোনো একটি নির্দিষ্ট কাপ বা বাটি সেট করে নিন এবং সেই অনুযায়ী জল দিন। ব্যস, আপনার রান্না করা ভাতও হবে একদম ঝরঝরে আর পারফেক্ট!
