উৎসবের রঙে রঙিন হোক অন্দরমহল: ২০২৬-এর ইদে ঘর সাজানোর দারুণ কিছু টিপস

দরজার মুখে বা বসার ঘরের দেওয়ালে ‘ইদ মোবারক’ লেখা নকশা করা ব্যানার ঝুলিয়ে দিতে পারে । তবে গতানুগতিক কাগজের বদলে সোনালি বা রুপোলি রঙের থ্রি-ডি কাট-আউট এখনকার ফ্যাশনে বেশ ইন। ছোট ছোট তারা আর চাঁদের মোটিফ দিয়ে তৈরি ঝালর পর্দার দুপাশে বেশ মানাবে। চাইলে অতিথিদের স্বাগত জানাতে হাতে তৈরি তোরণ ব্যবহার করুন।

উৎসবের রঙে রঙিন হোক অন্দরমহল: ২০২৬-এর ইদে ঘর সাজানোর দারুণ কিছু টিপস
Image Credit source: AI

Mar 17, 2026 | 6:51 PM

দরজায় কড়া নাড়ছে খুশির ইদ। একফালি বাঁকা চাঁদ দেখা দিলেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। নতুন পোশাক আর কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি এই দিনে ঘরটাকেও একটু মনের মতো করে সাজিয়ে তুলতে চান সকলে। সাধারণ ঘরটাকেও সামান্য কিছু বদলে উৎসবের আমেজে ভরিয়ে তোলা সম্ভব। ২০২৬-এর ইদে ঘর সাজানোর জন্য রইল দারুণ কিছু আইডিয়া।

আলোর সাজ

ইদের সাজে আলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ড্রয়িং রুমে সাধারণ আলোর পরিবর্তে মরোক্কান লণ্ঠন ব্যবহার করলে ঘরে এক রাজকীয় আভিজাত্য ফুটে ওঠে। জানলায় বা বারান্দায় এখনকার ট্রেন্ডি ‘স্টার অ্যান্ড মুন’ এলইডি স্ট্রিপ লাইট লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে ঘর লাগবে অসাধারণ। মনে হবে ঘরেই রয়েছে এক টুকরো আকাশ। দেওয়ালে ওয়ার্ম হোয়াইট টুনি লাইটের ব্যবহারও ঘরকে স্নিগ্ধ দেখাবে।

ব্যানারের বাহার

দরজার মুখে বা বসার ঘরের দেওয়ালে ‘ইদ মোবারক’ লেখা নকশা করা ব্যানার ঝুলিয়ে দিতে পারে । তবে গতানুগতিক কাগজের বদলে সোনালি বা রুপোলি রঙের থ্রি-ডি কাট-আউট এখনকার ফ্যাশনে বেশ ইন। ছোট ছোট তারা আর চাঁদের মোটিফ দিয়ে তৈরি ঝালর পর্দার দুপাশে বেশ মানাবে। চাইলে অতিথিদের স্বাগত জানাতে হাতে তৈরি তোরণ ব্যবহার করুন।

কুশন ও পর্দায় আসুক নতুনত্ব

পুরো ঘর রঙ করার সময় না থাকলেও শুধু কুশন কভার আর পর্দা বদলে দিলেই আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। মখমল বা সিল্কের কাপড়ের ওপর জরির কাজ করা কুশন কভার ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখায়। গাঢ় নীল, এমারেল্ড গ্রিন বা মেরুন রঙের পর্দা ঘরে এক আভিজাত্য তৈরি করে। মেঝেতে একটা সুন্দর কার্পেট বা শতরঞ্জি পেতে দিলে বসার জায়গাটা আরও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। দেখতেও বেশ সুন্দর লাগবে।

খাবার টেবিলের রাজকীয় সজ্জা

ইদ মানেই তো হরেক রকমের সুস্বাদু সব পদ। তাই ডাইনিং টেবিলটা হওয়া চাই আকর্ষণীয়। সাদা টেবিল ক্লথের ওপর রঙিন টেবিল ক্লথ ব্যবহার করলে দেখতে সুন্দর লাগে। টেবিলের মাঝখানে একটা শৌখিন পাত্রে তাজা ফুল আর চারপাশে কয়েকটা সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলে পরিবেশটাই পাল্টে যায়। খাবার পরিবেশনের জন্য কাচের বা পিতলের নকশা করা বাসন ব্যবহার করলে আতিথেয়তায় আসবে বিশেষত্ব।

ঘরের সাজ শুধু চোখের দেখার জন্য নয়, নাকে আসা সুঘ্রাণও উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয়। ঘরের কোণে বকুর বা আগরবাতি জ্বালিয়ে রাখা যায়। যারা ধোঁয়া পছন্দ করেন না, তারা রিড ডিফিউজার বা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। গোলাপ বা চন্দনের হালকা গন্ধ সারা বাড়িতে এক পবিত্র প্রশান্তি ছড়িয়ে দেবে।
আসলে ইদের সাজ মানে কেবল জাঁকজমক নয়, বরং এটি হল প্রিয়জনদের স্বাগত জানানোর এক আন্তরিক উপায়। অল্প কিছু বদল আর সামান্য সৃজনশীলতা দিয়েই ঘরকে করুন উৎসবের জন্য তৈরি।

Follow Us