
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উদয়পুরের রাজকীয় প্রাসাদে চার হাত এক হয়েছে ভারতের ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ রশ্মিকা মন্দানা এবং বিজয় দেবেরাকোন্ডার। বিয়ের ছবি সামনে আসতেই নেটপাড়ায় শোরগোল। তবে শুধু তাঁদের ডিজাইনার পোশাক নয়, ফ্যাশন দুনিয়ার নজর কেড়েছে এই জুটির গায়ে থাকা কয়েক কোটি টাকার সাবেকি গয়না। হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত ‘শ্রী জুয়েলার্স’-এর তৈরি এই হেরিটেজ গয়নাগুলোতে দাক্ষিণাত্যের আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের যে মেলবন্ধন দেখা গিয়েছে তা বেশ পছন্দ করেছেন অনেকেই।
অনামিকা খান্নার ডিজাইন করা কমলা-লাল রঙের শাড়ির সঙ্গে রশ্মিকা বেছে নিয়েছিলেন ভারী ‘টেম্পল জুয়েলারি’ (Temple Jewellery)। এই ধরনের গয়নায় সাধারণত দেবী লক্ষ্মী, ময়ূর এবং ফুলের কারুকার্য করা থাকে। রশ্মিকার গলায় ছিল একটি ভারী গোল্ডেন চোকার, যার মাঝখানে ছিল বিশালাকার গোলাকার পেনডেন্ট। তার সঙ্গে তিনি লেয়ার করেছিলেন বেশ কিছু লম্বা সোনার চেইন। কানে ছিল ঐতিহ্যবাহী ঝুমকো, যা চেইনের মাধ্যমে চুলের সঙ্গে আটকানো ছিল। হাতে ছিল ফুলের নকশা করা ‘হাতফুল’ এবং কনুই পর্যন্ত বিস্তৃত কারুকার্যময় বাজুবন্ধ। রশ্মিকার হাতের সোনার চুড়ি ও কড়ার সেটটি নাকি বিজয় দেবেরাকোন্ডার পরিবারের পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া। প্রথাগত লাল চুড়ির সঙ্গে এই সোনার কম্বিনেশন তাঁকে এক মায়াবী রূপ দিয়েছিল।
সাধারণত বিয়ের দিনে বরেরা খুব হালকা গয়না পরতেই পছন্দ করেন, কিন্তু বিজয় দেবেরাকোন্ডা এখানেও ছক ভেঙেছেন। তাঁর সাজে ছিল একেবারে অভিনবত্ব। গায়ে বিজয় পরেছিলেন একটি স্টেটমেন্ট ‘স্নেক-চেইন’ নেকলেস এবং তার সঙ্গে লম্বা টেম্পল স্টাইলের চেইন। বিজয়ের কানে ছিল হীরের স্টাড এবং হাতে ছিল যোদ্ধাদের মতো সোনায় মোড়ানো এক বিশেষ ‘হ্যান্ডকাফ’ (Handcuff)। সঙ্গে এনগেজমেন্ট রিং তো ছিলই। সব মিলিয়ে বিজয়ের এই সাজ রাজকীয় আভিজাত্যকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।
আজকাল অনেক সেলিব্রিটিই বিয়েতে অতি সাধারণ সাজ পছন্দ করেন। কিন্তু রশ্মিকা-বিজয় প্রমাণ করে দিলেন, শিকড়ের টান আর ঐতিহ্যের জৌলুস কোনওদিন পুরনো হয় না। উদয়পুরের মরুশহরে তাঁরা যেন দক্ষিণী সংস্কৃতির এক টুকরো প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁদের এই ‘হেরিটেজ ওয়েট’ জুয়েলারি আগামী বিয়ের মরসুমে নতুন ট্রেন্ড তৈরি করতে চলেছে।