Eating Cockroach: দুধে আরশোলা চুবিয়ে খাওয়া! এটা কোন রোগের লক্ষণ? কী বলছেন চিকিৎসকরা?
Psychological Illness: আরশোলা চিবিয়ে খেলেন ধারাবাহিকের নায়ক! দৃশ্য দেখে হতবাক নেটিজেনরা। কেউ তামাশা করছেন কেউ বা তুলছেন একাধিক প্রশ্ন। এটা কী কোনও অসুখ? সেই প্রশ্নও করছেন অনেকে। কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

সোশাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করতে করতে আচমকাই থমকে যাচ্ছেন নেটিজেনরা। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়ো ক্লিপ ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় নেটপাড়া। দৃশ্যটিতে দেখা যাচ্ছে, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছাকাছি আসছেন। রোম্যান্টিক মুহূর্ত তৈরি হতেই আচমকা তালভঙ্গ! স্ত্রীর পায়ে এসে বসেছে একটা জ্যান্ত আরশোলা। ভয়ে চিৎকার করে পিছিয়ে যান স্ত্রী। কিন্তু এর পরের দৃশ্যটি যা ঘটেছে, তা দেখার জন্য বোধহয় কেউই প্রস্তুত ছিলেন না। স্ত্রী-র পা থেকে আরশোলাটি তুলে নেয় স্বামী। সেটিকে শাসিয়ে বলে, তার স্ত্রীর গায়ে বসার অপরাধে আরশোলাটির কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। আর সেই শাস্তি হিসেবেই জ্যান্ত আরশোলাটিকে এক গ্লাস দুধে চুবিয়ে আস্ত গিলে নেয় সে!
এই দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়তেই সমাজমাধ্যমে তুমুল হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে। দৃশ্য দেখে হতবাক নেটিজেনরা। কেউ তামাশা করছেন কেউ বা তুলছেন একাধিক প্রশ্ন। এটা কী কোনও অসুখ? সেই প্রশ্নও করছেন অনেকে।
এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য টিভি ৯ বাংলার তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল ডাঃ সুজিত সরখেল (অধ্যাপক, মনোরোগ বিভাগ, এস এস কে এম হাসপাতাল) এর সঙ্গে। তিনি এই বিষয়ে বলেন, “এত বছরের দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে আমি এমন কোনও ঘটনা কখনও দেখিনি বা শুনিনি।” শুধু তিনিই নন, শহরের আরও বেশ কয়েকজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরাও এই একই উত্তর দেন।
তবে এই গল্প এখানেই শেষ নয়। ধারাবাহিকের সেই অদ্ভুত চরিত্রের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সে সবসময় কালো রঙের পোশাক পরে থাকে। ঘরের বা অফিসের জিনিস একদম নির্দিষ্ট জায়গায় থাকা চাই। নিজের জায়গা থেকে কোনও জিনিস এক ইঞ্চি সরলেও সে মারাত্মক রেগে যায়, নিমেষে বদলে যায় মুখের অভিব্যক্তি। সব কিছু ‘পিকচার পারফেক্ট’ রাখা চাই তাঁর।
বাস্তবে মানুষের স্বভাব কেন এমন চরম পর্যায়ের হতে পারে? এই রহস্যের জট খুলে ডাঃ সুজিত সরখেল জানান, “এটি মূলত ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা OCD-র লক্ষণ হতে পারে। আবার অনেক সময় এটি ‘অবসেসিভ কমপালসিভ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ (OCPD)-এর কারণেও ঘটে থাকে। কোনও মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত পারফেকশনিস্ট বা সব নিখুঁত রাখার প্রবণতা থাকলে, তার পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।” তবে ধারাবাহিকটির টিজারের দৃশ্যটির মত চরিত্র বাস্তবেও রয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে জানা যায়নি।এই মুহূর্তে কিন্তু আরশোলারা খুব ভয়ঙ্কর, বিচারপতির আরশোলা মন্তব্যের পর ‘ককরোচ’-রা এখন বেশ সক্রিয়, এরকম আরশোলার অপমান কি মেনে নেবে ‘ককরোচ’ রা? সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
