
হেঁচকি অনেকের কাছেই বেশ বিরক্তিকর। হঠাৎ হেঁচকি ওঠা সাধারণ বিষয়। ঠান্ডা জল খেলে, তাড়াহুড়ো করে খেলে কিংবা হঠাৎ খুব হাসলে দেখা দেয় হেঁচকি। অনেক সময় নিজে থেকেই শুরু হয়, আবার থেমেও যায়। কিন্তু সমস্যা তখনই, যখন বারবার হেঁচকি ওঠে বা দু’দিনের বেশি সময় ধরে হেঁচকি থামতেই চায় না। চিকিৎসকদের মতে, এগুলো একেবারেই স্বাভাবিক বিষয় নয়।
হেঁচকি আসলে কী?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হেঁচকির নাম Hiccups। ফুসফুসের নীচে থাকা শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি ডায়াফ্রাম হঠাৎ সংকুচিত হলে এবং সেই সঙ্গে স্বরতন্ত্রী আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে যে শব্দ হয়, সেটাই হেঁচকি।
হেঁচকি ওঠার স্বাভাবিক কারণ কী ,কী?
দ্রুত খাবার বা জল পান করা, অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খাওয়া, কার্বোনেটেড পানীয় পান করা, মানসিক চাপ বা উত্তেজনা দেখা দিলে, অতিরিক্ত মদ্যপান করলে স্বাভাবিক ভাবে হেঁচকি উঠতে পারে।
তবে কখন বুঝবেন হেঁচকি দিচ্ছে বিপদসংকেত?
স্ট্রোক, টিউমার, মেনিনজাইটিস বা পার্কিনসন্স রোগের কারণে ডায়াফ্রামের স্নায়ুতে সমস্যা হলে। গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD), খাদ্যনালীর প্রদাহ, পেটের টিউমার থাকলে। নিউমোনিয়া, প্লুরিসি (ফুসফুসের আবরণের প্রদাহ)থাকলে, কিডনি ফেইলিওর, রক্তে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা থাকলে, ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড থাকলে। কিছু ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলে হেঁচকি হল বিপদ সংকেত।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি হেঁচকি ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, বা এর সঙ্গে ওজন হ্রাস, বুকে ব্যথা, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকে, তাহলে দেরি না করে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। স্বাভাবিক হেঁচকি কমানোর বেশ কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। হেঁচকি শুরু হলে ধীরে ধীরে ঠান্ডা জল খাওয়া, শ্বাস ধরে ১০–১৫ সেকেন্ড থাকা, এক চামচ চিনি খাওয়া এই টোটকাগুলো অনেক সময় উপকারে লাগে। তবে চিকিৎসকদের মত, এই উপায়গুলো দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকির দমনে কোনও কাজে লাগে না।