গরমের ছুটি কি পাহাড়ে? এপ্রিলেও বরফে ঢাকা সিকিমের এই কয়েকটি জায়গা যেন সাক্ষাৎ স্বর্গ!

সিকিমের মায়াবী রূপ চাক্ষুষ করতে হলে আপনার যাত্রা শুরু হবে সেই পরিচিত শিলিগুড়ি থেকেই। বাগডোগরা বিমানবন্দর কিংবা নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশনে নামলেই হিমেল হাওয়ার আভাস মিলতে শুরু করবে। এখান থেকে তিস্তা নদীকে পাশে নিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে গ্যাংটকের যাত্রা করলে দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ দিনের ট্যুর প্ল্যান করলে মাথাপিছু ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করলেই আয়েশ করে ঘুরে আসা সম্ভব। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের পকেটে টান না দিয়েই বরফ দেখার শখ পূরণ হতে পারে অনায়াসেই।

গরমের ছুটি কি পাহাড়ে? এপ্রিলেও বরফে ঢাকা সিকিমের এই কয়েকটি জায়গা যেন সাক্ষাৎ স্বর্গ!
Image Credit source: AI

Mar 20, 2026 | 4:41 PM

ক্যালেন্ডারের পাতায় চৈত্র মাস চলছে, ঘাম ঝরানো গরমের চোখরাঙানিও শুরু হয়ে গিয়েছে বহু জায়গায়। কিন্তু হিমালয়ের কোলে গল্পের ছবিটা ঠিক উল্টো। যখন সারা বাংলা এসি আর ফ্যানের হাওয়ায় স্বস্তি খুঁজছে, তখন প্রতিবেশী রাজ্য সিকিম সেজেছে সাদা বরফের চাদরে। বসন্তের ছোঁয়া লাগলেও সিকিমের পাহাড়ে এখনও শীতের রাজত্ব। অকাল তুষারপাতের জেরে পর্যটকদের কাছে এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! আপনিও কি এই গরমে একটু হাড়কাঁপানো ঠান্ডার স্বাদ নিতে চান? তাহলে সিকিমের প্রবেশদ্বার উত্তরবঙ্গ কিন্তু আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।

সিকিমের মায়াবী রূপ চাক্ষুষ করতে হলে আপনার যাত্রা শুরু হবে সেই পরিচিত শিলিগুড়ি থেকেই। বাগডোগরা বিমানবন্দর কিংবা নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশনে নামলেই হিমেল হাওয়ার আভাস মিলতে শুরু করবে। এখান থেকে তিস্তা নদীকে পাশে নিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে গ্যাংটকের যাত্রা করলে দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ দিনের ট্যুর প্ল্যান করলে মাথাপিছু ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করলেই আয়েশ করে ঘুরে আসা সম্ভব। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের পকেটে টান না দিয়েই বরফ দেখার শখ পূরণ হতে পারে অনায়াসেই।

সিকিম ভ্রমণে গিয়ে কোন জায়গাগুলো না দেখলে আপনার ঘোরাটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে? দেখে নিন সেই তালিকা:

ছাঙ্গু লেক ও নাথুলা পাস: ১২ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত নীল জলরাশির ছাঙ্গু লেক এখন বরফে মোড়া। ঠিক পাশেই নাথুলা পাসে ভারত-চিন সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমের রোমাঞ্চ অনুভব করা যায় এক লহমায়।

আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক শান্তি: বৌদ্ধ স্থাপত্য উপভোগ করতে চাইলে চলে যান রুমটেক মঠে। আর যদি রঙের উৎসব দেখতে চান, তবে ইয়ুমথাং ভ্যালি বা ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’ আপনার গন্তব্য হওয়া উচিত।

উত্তর সিকিম: লাচেন আর লাচুং গ্রাম থেকে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতার গুরুদোংমার লেকের পথে যাত্রা জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হতে পারে। এই লেকের নীল জল আর চারপাশের তুষারশুভ্র পাহাড় দেখে আপনার মনে হবে আপনি অন্য কোনও গ্রহে পৌঁছে গিয়েছেন।

অফবিট ও অ্যাডভেঞ্চার: ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে জুলুক আর কাঞ্চনজঙ্ঘার প্যানোরামিক ভিউ দেখতে পেলিং-এর জুড়ি নেই। রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য রয়েছে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাসপেনশন ব্রিজ ‘সিংশোর’। আর ভক্তির টানে ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণ সিকিমের নামচি ও চারধাম।

এপ্রিলেও সিকিমের এই তুষারপাত পর্যটন ব্যবসায় নতুন জোয়ার এনেছে। তাই দেরি না করে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ পাহাড় ডাকছে, আর সেই ডাক উপেক্ষা করা যে কোনও ভ্রমণপিপাসুর পক্ষেই কঠিন!

 

Follow Us