New clothes rash: নতুন জামা পরলেই চুলকানি ও র্যাশ? পুজোর আনন্দ মাটি হওয়ার আগেই জেনে নিন বাঁচার উপায়
অনেকেই একে নিছক গরম বা ঘামের ফল ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নতুন কাপড়ের রং, তা পাকা করার জন্য ব্যবহৃত নানা রাসায়নিক উপাদান কিংবা ফিনিশিংয়ের বিভিন্ন কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে সংবেদনশীল ত্বকে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উৎসবের মরসুমে নতুন জামাকাপড় গায়ে জড়ানোর আনন্দই আলাদা। কিন্তু সেই নতুন পোশাক পরার পরেই যদি ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা অস্বস্তি শুরু হয়, তবে মুহূর্তেই মাটি হয়ে যায় সমস্ত আনন্দ। অনেকেই একে নিছক গরম বা ঘামের ফল ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নতুন কাপড়ের রং, তা পাকা করার জন্য ব্যবহৃত নানা রাসায়নিক উপাদান কিংবা ফিনিশিংয়ের বিভিন্ন কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে সংবেদনশীল ত্বকে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নতুন মানেই যে সবার ত্বকে সমস্যা হবে তা নয়, তবে কাপড়ে থাকা কিছু সিন্থেটিক উপাদান বা কেমিক্যাল সংবেদনশীল ত্বকে বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস’ (Contact Dermatitis)। এর ফলে ত্বকে চুলকানি, জ্বালাভাব, ফুসকুড়ি বা চামড়া শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে ঘাড়, বগল, কোমর বা উরুর মতো যে অংশগুলোতে পোশাক শরীরের সঙ্গে খুব আটকে থাকে, সেখানে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
পুজোর ভিড়ে প্যান্ডেল হপিং, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা এবং গরমে ঘেমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে আঁটসাঁট বা সিন্থেটিক কাপড়ের পোশাক পরলে হাওয়া চলাচল করতে পারে না। ফলে ঘাম বসে গিয়ে ত্বকে ঘর্ষণজনিত জ্বালা, র্যাশ বা লাল দাগ আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই সমস্যার আসল কারণ কেবল নতুন পোশাক নয়, বরং ঘাম এবং কাপড়ের উপাদানের বিক্রিয়াও বটে।
ত্বক সুস্থ রাখতে কী করবেন?
নতুন পোশাক গায়ে দেওয়ার আগে সম্ভব হলে একবার মৃদু সাবান বা জলে ধুয়ে নেওয়া ভালো। এতে কাপড়ে অতিরিক্ত লেগে থাকা রং বা কেমিক্যালের অবশিষ্টাংশ ধুয়ে যায়।
সংবেদনশীল ত্বক হলে খুব আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চলুন। সুতির বা নরম কাপড়ের পোশাক বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, যা ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করে।
নতুন জামা পরে চুলকানি শুরু হলে অবিলম্বে পোশাকটি বদলে ফেলুন এবং পরিষ্কার জল দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে শুকনো রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো স্টেরয়েড বা অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগাবেন না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি? পোশাক বদলানোর পরেও যদি চুলকানি বা লালচে ভাব না কমে, ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে কিংবা ত্বকে ফোসকা দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সাজসজ্জার পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেই পুজো কাটবে সম্পূর্ণ স্বস্তিতে!
