গরমের দাপটে পচে যাবে না তো ডিম? ডিম বাঁচান এভাবে
গরমের দিনে ডিম বাইরে না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাপমাত্রা বাড়লে ডিমের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এই মরসুমে ডিম ফ্রিজে রাখাই নিরাপদ। তবে ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আছে কিছু বিশেষ নিয়ম।

চৈত্রের চড়া রোদ আর প্যাচপ্যাচে গরমে নাজেহাল দশা সকলেরই। এই সময়ে সবথেকে বেশি দুশ্চিন্তা হয় বাজার থেকে আনা খাবার-দাবার নিয়ে। তার মধ্যে প্রোটিনের সবথেকে সস্তা এবং জনপ্রিয় উৎস হল ডিম। কিন্তু মুশকিল হল, গরম বাড়লেই ডিম তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অনেকেই দ্বিধায় থাকেন যে ডিম ফ্রিজে রাখা উচিত নাকি বাইরে? আবার ফ্রিজে রাখলেও তা ঠিক কোথায় রাখলে বেশিদিন টাটকা থাকবে, সেটা নিয়েও রয়েছে নানা মুনির নানা মত। আপনিও কি এই বিভ্রান্তিতে ভুগছেন? তাহলে জেনে নিন ডিম সতেজ রাখার কিছু মোক্ষম টিপস।
ফ্রিজে না বাইরে? কোথায় থাকবে ডিম?
গরমের দিনে ডিম বাইরে না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাপমাত্রা বাড়লে ডিমের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এই মরসুমে ডিম ফ্রিজে রাখাই নিরাপদ। তবে ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আছে কিছু বিশেষ নিয়ম।
ফ্রিজের দরজায় ডিম? আজই অভ্যাস বদলান
অনেকেই ফ্রিজের দরজার তাকেই ডিম সাজিয়ে রাখেন। কিন্তু জানেন কি, এটাই সবথেকে বড় ভুল? ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা এবং বন্ধ করার ফলে সেখানকার তাপমাত্রার হেরফের সবথেকে বেশি হয়। এই বারবার তাপমাত্রা বদলানোর ফলে ডিমের গুণমান দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই ডিম সবসময় ফ্রিজের মাঝের তাকে রাখুন, যেখানে তাপমাত্রা মোটামুটি স্থির থাকে।
ডিম তাজা রাখবেন কীভাবে?
ডিম শুধু ফ্রিজে ঢোকালিই হবে না, কয়েকটি সহজ পদ্ধতি মানলে তা দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকবে:
ডিম রাখার সময় তার সরু অংশটি নিচের দিকে এবং চওড়া অংশটি ওপরের দিকে রাখুন। এতে ডিমের ভেতরের কুসুম বা ‘ইওল্ক’ একদম স্থির থাকে এবং ডিম সহজে পচে না।
বাজার থেকে যে কাগজের ট্রে বা কার্টনে ডিম কেনেন, চেষ্টা করুন সেই অবস্থাতেই ফ্রিজে রাখতে। এটি ডিমকে বাইরের গন্ধ থেকে রক্ষা করে এবং আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অনেকেই ডিম কিনে এনে ধুয়ে ফেলেন। এটি একেবারেই করবেন না। ডিমের খোসার ওপর একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক স্তর থাকে। জল দিয়ে ধুলে সেই স্তরটি নষ্ট হয়ে যায়, ফলে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া ভেতরে ঢুকে ডিম নষ্ট করে দেয়। রান্নার ঠিক আগে প্রয়োজনে ধুয়ে নিতে পারেন।
ভালো না পচা? চিনে নিন এক নিমেষে
বাজার থেকে আনা সব ডিম যে টাটকা হবে তার গ্যারান্টি নেই। তাই খাওয়ার আগে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। একটি গামলা বা বাটিতে জল নিন। তার মধ্যে ডিমটি ছেড়ে দিন। ডিম যদি গামলার তলায় ডুবে যায়, তবে বুঝবেন সেটি একদম টাটকা।
যদি ডিমটি জলের ওপর ভাসে, তবে জানবেন সেটি পচে গিয়েছে। তা তৎক্ষণাৎ ফেলে দিন।
আর যদি ডিমটি জলের নিচে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে বুঝবেন সেটি খুব বেশি টাটকা না হলেও খাওয়ার যোগ্য। তবে সেটা দ্রুত খেয়ে ফেলাই ভালো।
গরমে সুস্থ থাকতে সঠিক পুষ্টির যেমন প্রয়োজন, তেমনি খাবার সংরক্ষণেও সতর্ক হয়ে উচিত। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো মেনে চললে আপনার সাধের ডিম থাকবে একদম ফ্রেশ!
