
হঠাৎ লক্ষ্য করছেন, মেয়ে আগের চেয়ে বেশি চুপচাপ। ছেলেটা দরজা বন্ধ করে কারও সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলছে। পরীক্ষার খাতায় নম্বর ঠিকই আছে, কিন্তু মন যেন অন্য কোথাও। সন্দেহ, ভয়, রাগ- সব মিলিয়ে আপনার ভেতরে ঝড় উঠতেই পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাই সেই সময়, যখন সন্তানের জীবনে আপনার ভূমিকা বদলে যায়—অভিভাবক থেকে বন্ধুর। কৈশোর বয়সে প্রেমের মত আবেগ কাজ করবেই। তবে কীভাবে সামলাবেন সন্তানকে?
American Psychological Association (APA)-এর মতে, কিশোর বয়সে রোম্যান্টিক অনুভূতি তৈরি হওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের অংশ। এই সম্পর্কগুলো থেকেই তারা শেখে সহানুভূতি, প্রত্যাখ্যান সামলানো, নিজের সীমা বোঝা এবং আত্মসম্মান গড়ে তোলা। অর্থাৎ, প্রেম মানেই বিপদ, এই ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
বরং সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন বাড়ির পরিবেশ কঠোর হয়ে ওঠে। Journal of Adolescence-এ প্রকাশিত গবেষণা জানাচ্ছে, যেসব পরিবারে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ থাকে, সেখানে কিশোররা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কম করে এবং মানসিক চাপও কম অনুভব করে। বিপরীতে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা বকাঝকা করলে বাচ্চা একেবারেই সবকিছু আপনাকে বলা বন্ধ করে দেবে।
তাহলে অভিভাবকের করণীয় কী?
প্রথমেই রাগারাগি না করে জিজ্ঞেস করুন—“তুমি কি কিছু শেয়ার করতে চাও?” আপনার সন্তানের কাছে আগে নিজের প্রতি বিশ্বাস তৈরি করুন। যাতে সে নিজে থেকেই তার মনের কথা আপনাকে বলেন।
অপমানজনক মন্তব্য একেবারেই এড়িয়ে চলুন “এই বয়সে এসব?”, “পড়াশোনা শেষ করো আগে”—এ ধরনের কথা অনেক সময় আত্মসম্মানে আঘাত করে। National Institute of Mental Health and Neurosciences (NIMHANS)-এর বিশেষজ্ঞরা বলেন, বারবার অপমান জনক কথা বললে কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে
চিৎকার করে কখনও সন্তানের ঘুম ভাঙাবেননা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পরিবারের ইতিবাচক আচরণ কিশোরদের মানসিক স্থিতি বাড়ায়। আদর বা প্রিয় গানের মাধ্যমে দিন শুরু করলে সম্পর্কও উষ্ণ থাকে।
আপনার সন্তান স্কুলে যেতে না চাইলে, বা আচরণ বদলে গেলে, সরাসরি দোষারোপ করবেন না। হয়ত সম্পর্কের টানাপোড়েন, হয়তো বন্ধুত্বের ভাঙনের জন্যই সে এরূপ আচরণ করছে। কারণ জানতে চাইলে তবেই সমাধান সম্ভব। ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়ে তার সমস্ত কথা শুনুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে কিশোর বয়সের প্রথম প্রেম চিরস্থায়ী নাও হতে পারে। কিন্তু সেই সময় সন্তানের পাশে থাকলে, তাকে সম্মান করলেই তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারবেন। প্রেম ভাঙলে সে যেন ভেঙে না পড়ে, সেটাই অভিভাবকের দায়িত্ব। কারণ শেষ পর্যন্ত, সন্তান যদি জানে তার সঙ্গে যাই ই হোক না কেন বাড়িতে তার কথা শোনার মানুষ আছে। তাহলেই সে সঠিক পথে ফিরতে শিখবে। ভয় দেখিয়ে নয়, ভরসা দিয়েই বড় করুন আপনার সন্তানকে।