জিভ বা গালে ঘা! ক্যানসারের লক্ষণকে অবহেলা করছেন না তো?

মুখের ভেতরে বা জিভে হঠাৎ করে কোনও সাদা বা লালচে ছোপ দেখা দিলে সতর্ক হোন। এগুলিতে ব্যথা না থাকলেও অবহেলা করবেন না।গালের ভেতরে বা ঠোঁটে কোনও শক্ত অংশ বা মাংসপিণ্ড অনুভব করলে অবিলম্বে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। অনেক সময় এগুলি ব্যথাহীন হয়, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

জিভ বা গালে ঘা! ক্যানসারের লক্ষণকে অবহেলা করছেন না তো?

Mar 20, 2026 | 4:20 PM

রোজের কর্মব্যস্ততায় ছোটখাটো শারীরিক অস্বস্তিকে অনেকেই খুব একটা পাত্তা দেন না। বিশেষ করে মুখের ভিতর একটা ছোট ঘা হলে ভাবেন, ‘ ঝাল লেগেছে বোধহয়, দু’দিনেই ঠিক হয়ে যাবে।’ কিন্তু এই ‘হয়ে যাবে’ মানসিকতাই কখনও কখনও ডেকে আনতে পারে চরম বিপদ। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সাধারণ উদাসীনতার সুযোগ নিয়েই শরীরে থাবা বসাতে পারে মাউথ ক্যানসার বা মুখগহ্বরের ক্যানসার।

মুখগহ্বরের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হল এর প্রাথমিক পর্যায়। শুরুতে অনেক ক্ষেত্রেই কোনও ব্যথা বা জ্বালাযন্ত্রণা থাকে না। ফলে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর শরীরের ভেতরে কোনও মারণ রোগ বাসা বাঁধছে। ঠোঁট, জিভ, গালের ভেতরের অংশ কিংবা মাড়ি— আক্রান্ত হতে পারে যে কোনও জায়গা। সাধারণত ধূমপান, তামাক সেবন কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপান এই রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে ইদানীং বদলে যাওয়া জীবনযাত্রায় এই ঝুঁকির তালিকায় যোগ হয়েছে আরও নানা অনুষঙ্গ।

কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছু নির্দিষ্ট বদল দেখলে বিন্দুমাত্র দেরি করা উচিত নয়:
যদি দেখেন মুখের কোনও ঘা বা আলসার দুই থেকে তিন সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরেও সারছে না, তবে সেটি বিপদের সঙ্কেত হতে পারে। সাধারণ ঘা সাধারণত সপ্তাহখানেকের মধ্যেই শুকিয়ে যায়।

মুখের ভেতরে বা জিভে হঠাৎ করে কোনও সাদা বা লালচে ছোপ দেখা দিলে সতর্ক হোন। এগুলিতে ব্যথা না থাকলেও অবহেলা করবেন না।

গালের ভেতরে বা ঠোঁটে কোনও শক্ত অংশ বা মাংসপিণ্ড অনুভব করলে অবিলম্বে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। অনেক সময় এগুলি ব্যথাহীন হয়, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

হঠাৎ করে গলার স্বর বসে যাওয়া বা কথা বলতে গিয়ে শব্দ উচ্চারণে সমস্যা হওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।

খাবার গিলতে বা চোয়াল নাড়াতে অসুবিধা হওয়া ক্যানসারের অগ্রগতির লক্ষণ হতে পারে।

কোনও ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি দেখেন তরতরিয়ে ওজন কমছে, তবে শরীরে অন্য কোনও জটিল রোগের ইঙ্গিত থাকতে পারে।

গবেষণা কী বলছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখগহ্বরের ক্যানসার যদি প্রথম ধাপে ধরা পড়ে, তবে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি থাকে।
তাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিয়মিত নিজের মুখগহ্বর পরীক্ষা করুন। কোনও অস্বাভাবিকতা দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, আজকের সচেতনতাই কালকের সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

Follow Us