রক্তদান করেন? জানেন রক্ত দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে কি হয়?
এই সময় শরীরের টিস্যু থেকে তরল রক্তনালিতে প্রবাহিত হয়, যাতে রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে। একই সঙ্গে কিডনি শরীরে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে, এই সময় বেশি জল তেষ্টা পায়, রক্তদানের সময় দাতাকে বেশি জলপান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখা প্রয়োজন।

রক্তদান শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, রক্তদানের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচে। তবুও অনেকেই রক্ত দিতে দ্বিধাবোধ করেন। কেউ ভাবেন এতে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে, কেউ আবার আশঙ্কা করেন দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সুস্থ মানুষের শরীর রক্তদানের পর খুব দ্রুতই নিজেকে পুনর্গঠিত করতে পারে আর সেই প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই।
রক্ত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে কী শুরু হয়?
রক্তদানের সময় সাধারণত প্রায় ৪৫০–৫০০ মিলিলিটার রক্ত নেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে রক্তের এই ঘাটতি পূরণ করতে শুরু করে শরীর।
চিকিৎসা গবেষণা অনুযায়ী, শরীর প্রথমে রক্তের তরল অংশ প্লাজমা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে। American Red Cross এর তরফে জানা গিয়েছে, রক্তের প্লাজমা সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
এই সময় শরীরের টিস্যু থেকে তরল রক্তনালিতে প্রবাহিত হয়, যাতে রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে। একই সঙ্গে কিডনি শরীরে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে, এই সময় বেশি জল তেষ্টা পায়, রক্তদানের সময় দাতাকে বেশি জলপান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখা প্রয়োজন।
রক্তদানের পর লিভার গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন অ্যালবুমিন পুনর্গঠন করতে শুরু করে, যা রক্তের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। Memorial Sloan Kettering Cancer Center (MSKCC)–এর মেডিক্যাল ব্যাখ্যায় জানা গিয়েছে হরমোনাল সিস্টেম সক্রিয় হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সংকেত দেয়, যেন তারা একসঙ্গে কাজ করে রক্তের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
রক্তের তরল অংশ দ্রুত স্বাভাবিক হলেও,লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells) পুরোপুরি পুনর্গঠিত হতে কিছুটা বেশি সময় নেয়।
World Health Organization (WHO) এর তরফে জানা গিয়েছে নতুন লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে। তবে অস্থিমজ্জা রক্ত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন কণিকা তৈরির কাজ শুরু করে। অন্যদিকে, সাদা রক্তকণিকা ও প্লেটলেট সাধারণত কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা স্বাভাবিক কেন?
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্ত দেওয়ার পর সাময়িক মাথা ঘোরা, হালকা দুর্বলতা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ভ্যাসোভেগাল রিঅ্যাকশন (Vasovagal Reaction)—যেখানে সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কিছুটা কমে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জলপান এবং হালকা খাবার গ্রহণ করলে এই উপসর্গ বেশিক্ষণ থাকে না।
রক্তদান কি শরীরের জন্য নিরাপদ?
American Red Cross, WHO–র মতে, সুস্থ মানুষের জন্য রক্তদান নিরাপদ এবং এটি শরীরের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বরং এটি দেহের প্রাকৃতিক পুনর্গঠন ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তোলে।
