ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খান? ঠিক না ভুল?
তবে কিছু গবেষক সতর্ক করে বলেছেন, যাঁদের আগে থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ডিমের কুসুম সমস্যা বাড়াতে পারে। পাবমেড-প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত ডায়েট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ধমনিতে প্রদাহ ঘটাতে পারে ও রক্তনালির ক্ষতিও করতে পারে। তাই সোক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

গোটা ডিম খাবেন না ডিমের কুসুম বাদ দেবেন এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে বহু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মনেই। অনেকেই তাই কুসুম ফেলে দিয়ে শুধু ডিমের সাদা অংশ খান, ভাবেন এতে হার্ট ভালো থাকবে। কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, এই ভয় অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত। আজ থেকেই কি খাবেন গোটা ডিম? জানুন গবেষণা কী বলছে।
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং এর তরফে জানা গিয়েছে, একটি বড় ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাট তুলনামূলক কম থাকে, অথচ এতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমন কোলিন (মস্তিষ্কের জন্য উপকারী), লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন (চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে), এবং ভিটামিন এ, বি ও ডি। দীর্ঘমেয়াদি বড় গবেষণাগুলোতে দেখা গিয়েছে, দিনে একটি ডিম খেলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে তো না-ই, বরং মেলে অনেক উপকার।
The American Journal of Clinical Nutrition-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা প্রতিদিন পুরো ডিম খেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে “ভালো কোলেস্টেরল”-এর কার্যকারিতা (HDL function) উন্নত হয়েছে। এতে মোট কোলেস্টেরল বা ক্ষতিকর LDL কোলেস্টেরল বাড়েনি।
২০১৯ সালে প্রকাশিত আরও একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে প্রতি সপ্তাহে চারটির বেশি গোটা ডিম খেলে মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে না। তবে নির্ভর করছে ডিমের ধরণ ও রান্নার পদ্ধতির ওপর।
তবে কিছু গবেষক সতর্ক করে বলেছেন, যাঁদের আগে থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ডিমের কুসুম সমস্যা বাড়াতে পারে। পাবমেড-প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত ডায়েট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ধমনিতে প্রদাহ ঘটাতে পারে ও রক্তনালির ক্ষতিও করতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সারকথা হল ডিমের কুসুমকে অকারণে “ভিলেন” বানানো ঠিক নয়। একটি গোটা ডিমে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন একসঙ্গে থাকে। সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে পুরো ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী। তবে যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের।
