Cold And Cough: জানেন ঠান্ডা লাগলে গলার স্বর কেন ভেঙে যায়?
ENT Specialist Advice: সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বর বসে যাওয়া কিংবা কথা বলতে গিয়ে গলায় টান ধরার সমস্যায় কমবেশি সকলেই ভোগেন। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, ঠান্ডা লাগলেই কেন হঠাৎ গলা ভেঙে বা বসে যায়? এর নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক কারণ কী?

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি আর তার সঙ্গে গলা ভেঙে যাওয়ার সমস্যা যেন ঘরে ঘরে। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বর বসে যাওয়া কিংবা কথা বলতে গিয়ে গলায় টান ধরার সমস্যায় কমবেশি সকলেই ভোগেন। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, ঠান্ডা লাগলেই কেন হঠাৎ গলা ভেঙে বা বসে যায়? এর নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক কারণ কী?
চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা লাগার সঙ্গে গলা ভেঙে যাওয়ার গভীর যোগ রয়েছে। আমাদের গলায় থাকা ভোকাল কর্ড বা স্বরযন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। ঠান্ডা বা ভাইরাসের আক্রমণে ঠিক কী ঘটে সেখানে? মার্কিন এক বিশ্ববিদ্য়ালয়ের হেলথ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত ঠান্ডা লাগলে বা ভাইরাল ইনফেকশন হলে আমাদের শ্বাসনালীর উপরের অংশে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন শুরু হয়। এর ফলে ভোকাল কর্ড বা স্বরযন্ত্র ফুলে ওঠে এবং তার কম্পন ব্যাহত হয়। এই কারণেই গলা দিয়ে স্পষ্ট আওয়াজ বেরোতে পারে না এবং স্বর বসে যায়।
চিকিৎসকরা আরও জানাচ্ছেন, ঠান্ডা আবহাওয়ায় অনেকে কম জল খান বা শুষ্ক বাতাসের কারণে গলা শুকিয়ে যায়, যা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া সাইনাসের সমস্যা বা অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খাওয়ার অভ্যাসও ভোকাল কর্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাহলে এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, গলা ভেঙে গেলে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
ঈষদুষ্ণ জলে নুন মিশিয়ে দিনে অন্তত দু-তিনবার গার্গল করা উচিত।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও লিকুইড খাবার খেয়ে গলা ভেজা বা হাইড্রেটেড রাখতে হবে।
আদা চা, মধু-লেবুর রস বা তুলসি পাতার রস গলাকে আরাম দিতে বিশেষ সাহায্য করে।
কথা কম বলে ভোকাল কর্ডকে কিছুদিন বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন।
সমস্যা যদি ৪-৫ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং তীব্র ব্যথা বা জ্বর থাকে, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
