
শীতের শেষে বসন্তের শুরু এই সময়টা শরীরের জন্য একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড। শীতে ভারী খাবারের অভ্যাস বাড়ে অনেকেরই, ফলে অনেকের ওজনও বেড়ে যায়। ফেব্রুয়ারি মাস তাই ডায়েট ঠিক করার জন্য আদর্শ সময়। আর এই সময় সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হল মৌসুমি ফল খাওয়া। সঠিক ফল শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ায়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ধীরে ধীরে মেদ কমাতে সাহায্য করে। এই সময় ওজন কমাতে আর সুস্থ থাকতে ফল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাইট্রাস ফল: কমলালেবু, মুসাম্বি লেবু ও আঙুর এই ফলগুলো ভিটামিন সি-তে ভরপুর। ভিটামিন সি শরীরের ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এছাড়াও এই ফলগুলিতে জল ও আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, ফলে অপ্রয়োজনীয় খিদে কমে। কালো আঙুর বিশেষভাবে ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।
আপেল: ক্ষিদে কমাতে বেশ কার্যকর। আপেলে থাকা পেকটিন নামের ফাইবার হজমের গতি কমায়, ফলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা লাগে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হঠাৎ করে মিষ্টি বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ইচ্ছা কমে। প্রতিদিন একটি আপেল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
পেয়ারা: পেয়ারা এমন একটি ফল যাতে ক্যালোরি কম থাকলেও ফাইবার ও ভিটামিনে ভরপুর। এটি হজম ভালো রাখতে ভালো রাখে, কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ডায়েটের সময় পেয়ারা আদর্শ ফল।
পেঁপে: পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। নিয়মিত পেঁপে খেলে পেটের গ্যাস ও ফোলাভাব কমে, হজম ভালো হয় এবং শরীর হালকা লাগে। ভালো হজম মানেই মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে আর সেটাই ওজন কমানোর অন্যতম চাবিকাঠি।
কিউই ও স্ট্রবেরি: কিউই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা শরীরের চর্বি গলাতে সাহায্য করে। স্ট্রবেরি কম ক্যালোরির হলেও প্রাকৃতিক মিষ্টতার জন্য চিনিযুক্ত ডেজার্টের ভালো বিকল্প হতে পারে। যারা ডায়েটের সময় মিষ্টি খেতে চান, তাদের জন্য এই ফল।