AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

শৈশবে থাবা বসাচ্ছে ওবেসিটি! ‘সাইলেন্ট কিলার’ থেকে আপনার সন্তানকে বাঁচাবেন কীভাবে?

এক সময় মনে করা হত, শিশু একটু নাদুসনুদুস হওয়া মানেই সে সুস্থ। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতেও শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হল খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার অভাব। বাড়ির তৈরি খাবারের বদলে পিৎজা, বার্গার কিংবা প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক শিশুদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সেডেন্টারি লাইফস্টাইল’ বা অলস জীবনযাপন। খেলার মাঠের বদলে স্মার্টফোনের স্ক্রিনই এখন শিশুদের প্রধান সঙ্গী।

শৈশবে থাবা বসাচ্ছে ওবেসিটি! ‘সাইলেন্ট কিলার’ থেকে আপনার সন্তানকে বাঁচাবেন কীভাবে?
Image Credit: AI
| Updated on: Mar 04, 2026 | 6:12 PM
Share

মাঠের ধুলোবালি মেখে বাড়ি ফেরা কিংবা বিকেলে পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে ছুটোছুটি— এই দৃশ্যগুলো এখন অনেকটা রূপকথার মতো মনে হয়। আধুনিক সময়ের শৈশব এখন চার দেওয়ালের মাঝে, মুঠোফোন আর ভিডিয়ো গেমসের স্ক্রিনে বন্দি। কিন্তু এই জীবনযাত্রার আড়ালে নিঃশব্দে ঘনিয়ে আসছে এক বড় বিপদ। বিশ্ব স্থূলতা দিবস বা ‘ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ডে’-তে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন এক চরম বাস্তব নিয়ে। আমাদের আগামী প্রজন্ম এক ‘সাইলেন্ট ক্রাইসিস’ বা নীরব সংকটের মুখে, যার নাম শৈশবকালীন স্থূলতা বা চাইল্ডহুড ওবেসিটি।

কেন এই পরিস্থিতির মুখে পড়ছে শিশুরা?

এক সময় মনে করা হত, শিশু একটু নাদুসনুদুস হওয়া মানেই সে সুস্থ। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতেও শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এর প্রধান কারণ হল খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার অভাব। বাড়ির তৈরি খাবারের বদলে পিৎজা, বার্গার কিংবা প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক শিশুদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সেডেন্টারি লাইফস্টাইল’ বা অলস জীবনযাপন। খেলার মাঠের বদলে স্মার্টফোনের স্ক্রিনই এখন শিশুদের প্রধান সঙ্গী।

চিকিৎসকদের মতে, ওবেসিটি কেবল শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে না, এটি শরীরে একাধিক মারণ রোগের বীজ বুনে দেয়। অল্প বয়সেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা এখন শিশুদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেক শিশু মানসিক অবসাদ বা হীনম্মন্যতাতেও ভোগে। স্কুল বা খেলার সাথীদের টিটকিরি তাদের মানসিক বিকাশে বাধা দেয়।

বাঁচবার পথ কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যার সমাধান কেবল শিশুদের হাতে নেই, এখানে মা-বাবার ভূমিকা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার থালায় কার্বোহাইড্রেটের বদলে প্রোটিন এবং ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্যাকেটজাত পানীয় বা ‘কোল্ড ড্রিঙ্কস’ থেকে শিশুদের দূরে রাখা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা কায়িক পরিশ্রম বা আউটডোর গেমসের অভ্যাস করানো প্রয়োজন। স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে।

স্থূলতা কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, বরং এটি একটি অসুখ। আর এই অসুখ থেকে সন্তানদের মুক্ত রাখতে সচেতনতাই হল একমাত্র হাতিয়ার। শৈশব হোক রোগমুক্ত আর প্রাণবন্ত, এটাই হোক এবারের ওবেসিটি দিবসের অঙ্গীকার।