
ফাইল ছবি

এক সময় ভারত ছিল এশীয় চিতাদের আবাসস্থল। রাজা-মহারাজাদের শিকারের কারণে এবং সঠিক দেখভাল না হওয়ার জেরে ধীরে-ধীরে দেশে কমতে থাকে এশীয় চিতার সংখ্যা। ১৯৪৭ সালে শেষবার অধুনা ছত্তিসগড়ের অন্তর্গত সুরগুজার কোরিয়া অঞ্চলের মহারাজ রামানুজ প্রতাপ সিংহ দেও তিনটি চিতা শিকার করেন। এরপর আর ভারতে দেখা মেলেনি এশীয় চিতার।

১৯৫২ সালে সরকারি ভাবে এশীয় চিতাকে বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করা হয়। ২০২২-এ পুনরায় ভারতের মাটিতে ঘুরতে দেখা গেল চিতা। তবে এশীয় নয়, আফ্রিকান চিতা। ২০২২-এর ১৭ সেপ্টেম্বর নামিবিয়া থেকে ৮টি আফ্রিকান চিতা আনা হয় মধ্যপ্রদেশের কুনো পালপুর জঙ্গলে।

১৭ সেপ্টেম্বর নামিবিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে নিয়ে আসা হয় ৮টি আফ্রিকান চিতা, যার মধ্যে ছিল ৫টি পুরুষ ও ৩টি মহিলা চিতা। চিতাদের নাম রাখা হয় ফ্রেডি, আলটন, সাভানা, সাশা, ওবান, আশা, সিবিলি এবং সাইসা।

প্রায় দু'মাস কোয়ারন্টিনে রাখা হয় চিতাদের। ২২-এর নভেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন মোদী টুইট করে লেখেন, "বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের পর কুনোর জঙ্গল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ২টি চিতাকে জঙ্গলের বৃহত্তর অংশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যগুলিকেও খুব দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হবে। আমি এটা জেনে খুব খুশি হয়েছি, চিতা গুলি সুস্থ রয়েছে এবং তাদের মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না।"

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর অবধি পর্যবেক্ষণে রাখার পর ফ্রেডি ও এলটন নামের দুটো চিতাকে কুনো জঙ্গলের বৃহত্তরে অংশে ছাড়া হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই দুটো চিতা তাদের প্রথম শিকার করে। আর এখন ওই আটজন স্বাদ পেয়ে গেছে ভারতের নীলগাই, চিতল হরিণ ইত্যাদির।

কুনোর জঙ্গলে চিতা।