
হিন্দু ধর্মে খাবার খাওয়া ও খাবার নিয়ে বেশ কিছু নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী একাদশীর দিন ভাত বানানো ও খাওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে রুটি বানানো ও খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে।

ভারতীয় সংস্কৃতিতে রুটি খাওয়া বহুল প্রচলিত। প্রত্যেক ভারতীয়দের কাছে ভাত-রুটি হল প্রধান খাদ্য। সকাল-বিকেল-সন্ধ্যেতে ভাত-রুটি না খেলে চলে না।

আমাদের সংস্কৃতিতে মা-ঠাকুমারা রুটি খাওয়ার উপকারিতা শুনিয়ে এসেছেন। সম্পূর্ণ খাবার হিসেবে রুটিকে খাবারের তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়। তবে শুধু স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নয়, জ্যোতিষশাস্ত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ রয়েছে। রুটি খাওয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট দিন রয়েছে, যেদিন রুটি খেলে অশুভ লক্ষণের প্রভাব পড়তে পারেন।

সনাতন ধর্মে, দীপাবলী, কালী পুজোর মতো দিনগুলিতে দেবী লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। এমন শুভ উত্সবের দিনে রুটির বানানো নিষিদ্ধ। এদিন রুটি বানালে দেবী লক্ষ্মী খুব রেগে যান ও ঘর ছেড়ে চলে যান।


শীতলা অষ্টমীতে দেবী শীতলা দেবীর পুজো করা হয়। ওই দিন শীতলাদেবীকে বাসি খাবার নিবেদন করা হয়। বাকি বাসি খাবার ভোগ হিসেবে বিলি করা হয়। এই দিনে বাড়িতে তাজা খাবার রান্না করা নিষিদ্ধ বলে মেনে নেওয়া হয়। এই দিনে রুটি ভুলেও তৈরি করা হয় না।

শাস্ত্র অনুসারে, কড়াইকে সাপের ফণার প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাই নাগপঞ্চমীর দিন রান্নাঘরের উনুনে রুটি সেঁকে নেওয়া ও ভাজা নিষিদ্ধ। এ কারণে রুটিও তৈরি হয় না। যে খাবারগুলির সঙ্গে ভাজাভুজি ব্যবহার করে না সেগুলি তৈরি করা যেতে পারে।

পুরাণে বলা রয়েছে যে বাড়িতে কেউ মারা গেলে বা শবদাহ করা হলে, তার পরের দিন ভুল করেও কোনও খাবার তৈরি করা উচিত নয়। এ কারণে রুটি বানানোও নিষিদ্ধ। পুরাণ অনুসারে, মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধকাজ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে রুটি তৈরি করার নিয়ম নেই।