
২০০৭ সালে এমএস ধোনি নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল জিতেছিল প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ জোহানেসবার্গে এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৫ রানে পরাজিত করেছিল পাকিস্তানকে। সচিন, শেওয়াগের মতো সিনিয়ররা দলে ছিলেন না। একঝাঁক তরুণকে নিয়ে কাপ জিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিলেন ধোনি। তাঁর অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু সেখান থেকেই। ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হয়েছিল এক নতুন ইতিহাস।

২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে আট উইকেটে হারিয়ে পাকিস্তানকে প্রথম এবং একমাত্র শিরোপা এনে দেন ইউনিস খান । তাঁর বুদ্ধি এবং শান্ত অধিনায়কত্বের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। যা দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং চ্যাম্পিয়ন করতে সাহায্য করেছিল।

২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো আইসিসি ট্রফি জেতান পল কলিংউড। শুরুটা ছিল চাপের। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন। কলিংউডের কৌশলগত নেতৃত্ব এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ম্য়াচের রঙ বদলে দিয়েছিল।

২০১৬ সালে ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তিনি তাঁর ব্যতিক্রমী নেতৃত্বের পরিচয় দেন। তিনি দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম অধিনায়ক হন। এখনও সেই রেকর্ড অক্ষত।

লাসিথ মালিঙ্গা ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কাকে তাদের প্রথম আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। ফাইনালে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল তারা। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মালিঙ্গা অধিনায়কত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দুর্দান্ত বোলিং করে ভারতকে বড় রান খাড়া করতে দেননি।

ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১২ সালে তাদের প্রথম আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল। ৭ অক্টোবর কলম্বোতে ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩৬ রানে হারিয়ে কাপ জেতে ক্যারিবিয়ান টিম। ড্য়ারেন ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৫ বলে অপরাজিত ২৬ রান করেন।

২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন অ্যারন ফিঞ্চ। তিনি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছিল। তাঁর নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়া প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে। ফিঞ্চের নেতৃত্বে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া।

২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে জস বাটলার অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দলকে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতান জস। তিনি টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পাকিস্তান এর বিরুদ্ধে ফাইনালে ২৬ বলে ২৬ রান করে দলের জয় অবদান রাখেন।

রোহিত শর্মা ২০২৪ সালে ভারতকে তাদের দ্বিতীয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন। ২০২৪ সালে ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়েছে তাঁর দল। ১৫৬.৭০ স্ট্রাইক রেটে ২৫৭ রান করে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেই ফর্ম্যাট থেকে অবসর নেন।

২০২৬ সালে কোন দল হতে পারে বিশ্বকাপ বিজয়ী? বিশেষজ্ঞদের মতে আবারও ঘরের মাঠে জয় পেতে পারে ভারত। টি-টোয়েনটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আয়োজক কোনও দেশ এর আগে জয়ী হয়নি। ভারতের সামনে দারুণ সুযোগ রয়েছে।