
অজমতউল্লাহ ওমরজাই--- প্রতিভাবান আফগান অলরাউন্ডার। তিনি ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য সুপরিচিত। ২০২৪ সালের আইসিসি বর্ষসেরা ওডিআই ক্রিকেটার হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন। আফগান ক্রিকেটার সাদা বলের ক্রিকেটে বরাবর দুরন্ত পারফর্মার। বিশ্বকাপেও দলের অন্যতম ভরসা। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০২১ সালে আত্মপ্রকাশ করেন এবং দ্রুত দলের অপরিহার্য সদস্য হয়ে ওঠেন।

দীপেন্দ্র সিং আইরি- নেপালি ক্রিকেটার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য চর্চায় রয়েছেন। তিনি এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ৯ বলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। পাশাপাশি একজন দক্ষ অলরাউন্ডার। তবে দীপেন্দ্রর কাছে এটা বড় পরীক্ষা। বিশ্বকাপের আসরে তিনি কতটা সফল হন, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবে অনেকেই।

হার্দিক পান্ডিয়া--- নিজের দিনে একাই ছিনিয়ে নিয়ে যেতে পারেন ম্যাচ। দলের ভাঙনে নিতে পারেন ভূমিকা। বল হাতেও চমকে দিতে পারেন। এই তিনি বিশ্বকাপে নামার আগেই বিস্ফোরক ছন্দে রয়েছেন। হার্দিক পান্ডিয়া যে ভারতের সেরা বোলিং অলরাউন্ডার, সন্দেহ নেই। বিশ্বের প্রথম সারিরও বটে। মিডল অর্ডার ব্যাটিং এবং ডেথ বোলিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার, তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০০ রান এবং ১০০ উইকেট পূর্ণ করা প্রথম ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার। ভারতের জয়েও হার্দিক নেবেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা?

মহম্মাদ নবি- বয়স ৪১। কিন্তু পারফরম্যান্সে তারুণ্যের ছায়া। বল হাতে বরাবরই ভীষণ কৃপণ। তবে আফগান ক্রিকেটার প্রয়োজনে দ্রুত রানও তুলতে পারেন। আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আগের দলের অধিনায়কও ছিলেন। টি-টোয়েন্টি আফগানিস্তান অন্যতম ফেভারিট দল। তারুণ্যের জন্য তো বটেই, ধারাবাহিকতার জন্যও। নবির মতো সিনিয়র অলরাউন্ডার সাফল্য পেলে দলের কাজটা সহজ হয়ে যাবে।

মহম্মদ নওয়াজ: পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বাঁ-হাতি স্পিনার। সেই সঙ্গে লোয়ার অর্ডার ব্যাটার। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও পাকিস্তান দলের নিয়মিত এই সদস্য ২০২২ এশিয়া কাপের অন্যতম নায়ক ছিলেন। তিনি ২০২৫-২৬ বিপিএলেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। গত বিশ্বকাপে পাকিস্তান কার্যত কিছুই করতে পারেননি। ব্যাটিং নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই গ্রিন আর্মিকে শেষ দিকে যদি দ্রুত রান এনে দিতে পারেন নওয়াজ, দলে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়বে।

রোমারিও শেফার্ড- মিডিয়াম পেসার হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত। শুধু তাই নয়, বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবে সুনাম রয়েছে তাঁর। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলেছেন। ফলে উপমহাদেশে সাফল্যের রেসিপি তাঁর জানা। শেফার্ডের দিকে নজর থাকবে ক্রিকেট মহলের।

রস্টন চেজ- ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বেশ চর্চিত অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফস্পিনের হাতটাও চমৎকার। মাঠে নানা ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। দলকে ব্যাট ও বল হাতে সাফল্য দেওয়ার গুরু দায়িত্ব নিতে হবে রস্টনকে। ছোট ফর্ম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দু'বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। রস্টনরা কি আবার দেশকে কাপ দিতে পারবেন?

সাইম আইয়ুব- পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আইয়ুব বাঁহাতি ওপেনিং ব্যাটার এবং ডানহাতি অফব্রেক বোলার। তিনি ২০২৩ সালে পাকিস্তান দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এবং অসাধারণ টাইমিংয়ের জন্য পরিচিত এই তরুণ অলরাউন্ডার। রানের পাশাপাশি বল হাতে যদি উইকেট তুলে নিতে পারেন, দলে গুরুত্ব বাড়বে।

সিকান্দার রাজা- আবার টি-টোয়েন্টির মূলস্রোতে ফিরেছে জিম্বাবোয়ে। দলের ক্যাপ্টেন তো বটেই, চমৎকার অলরাউন্ডারও। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফস্পিন বোলিং করেন। জিম্বাবোয়ের সোনালি অতীত না থাকলেও দলকে গোছানো থেকে মাঠে লড়াই করা, সবেতেই ভরসার মুখ সিকান্দার রাজা। আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। উপমহাদেশের পরিবেশে দলকে সাফল্য দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা--- শ্রীলঙ্কার অত্যন্ত প্রতিভাবান লেগস্পিনার এবং অলরাউন্ডার। তিনি টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর দুরন্ত স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত গতিতে রান তুলতে পারেন। তিনি ওয়ান ডে-তে দ্রুততম ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১০০ উইকেট অর্জনকারী বোলারদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কাও বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। ঘরের মাঠে দলের ভরসার মুখ হাসারাঙ্গা।