সামনেই শনি জয়ন্তী, ওই দিনে শনিদেবের পুজোর জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। এদিনে শনিদেবকে কালো তিল, কালো কাপড় বা উরদ নিবেদন করা উত্তম বলে মনে করা হয়। কেন কালো তিল ও কালো উরাদে সন্তুষ্ট হন শনিদেব, তা জেনে নিন...
শনি ন্যায়ের দেবতা। শনিদেব কর্ম, ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের দেবতা ও একজনের চিন্তা, কথা ও কর্মের উপর নির্ভর করে ফলাফল প্রদান করেন।
কথিত আছে, শনি যদি কোনও ব্যক্তির ওপর প্রসন্ন হোন, তাহলে তিনি সেই ব্যক্তিকে গরিব থেকে রাজা করে তোলেন। এমন পরিস্থিতিতে শনিদেবের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য শনি জয়ন্তীর দিনটিকেই শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়।
এবছর শনি জয়ন্তী পালিত হবে ১৯ এপ্রিল। শনিদেবকে তুষ্ট করতে এদিন কী কী করা উচিত, কেনকালো জিনিস , কালো তিল ও উরদ ডাল নিবেদন করা হয়, তা জেনে নিন এখানে...
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কালো জিনিস শনিদেবের খুব প্রিয়। কালো তিল, কালো ছোলা, কালো উড়দ, লোহার জিনিস নিবেদন করা হয়। শাস্ত্রে শনিদেবের রঙও কালো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিদেবের কাছে কালো রঙের জিনিস খুবই প্রিয়।
কিংবদন্তি অনুসারে, শনি হিন্দুধর্মের একজন দেবতা যিনি সূর্যদেব ও তার পত্নী ছায়াদেবীর পুত্র, এজন্য তাকে ছায়াপুত্র-ও বলা হয়। শনিদেব, মৃত্যু ও ন্যায় বিচারের দেবতা যমদেব বা ধর্মরাজ ও পবিত্র শ্রী যমুনা দেবীর অনুজ ভ্রাতা।
ছায়া যখন গর্ভবতী ছিলেন, তখন তিনি ভগবান শিবের কঠোর তপস্যায় মগ্ন ছিলেন। তাই তিনি নিজের যত্ন নিতে পারেননি। যার কারণে শনিদেব জন্মেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ ও অপুষ্ট। শনিদেবের রং দেখে সূর্যদেব শনিকে পুত্র হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন।
এই কারণে শনিদেবের মনে আঘাত লাগে ও মনখারাপ করে থাকেন। তবে মাতৃগর্ভেই শনিদেব শিবের শক্তি পেয়েছিলেন। এরপর সূর্যদেব ভগবান শিবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ও তাঁর ভুল স্বীকার করেন। কালো রঙের কারণে শনিদেবের কাছে কালো রঙ খুবই প্রিয়।
একবার সূর্যদেব শনিদেবের বাড়ি কুম্ভ পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। সূর্যদেব পরে তার ভুল বুঝতে পেরেছিলেন ও তারপরে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সূর্য শনির কাছে পৌঁছলে শনি তাকে কালো তিল দিয়ে স্বাগত জানান। এর পর সূর্য শনিকে সন্তুষ্ট করছিলেন। তাই শনিদেবের কাছে কালো তিল খুবই প্রিয়।
কালো তিল, কালো উরদ ডাল, কালো পোশাক নিবেদন করলে শনি দ্রুত প্রসন্ন হন। তাই শনি জয়ন্তীতে শনিদেবকে এই জিনিসগুলি অর্ঘ্য হিসেবে নিবেদন করলে জীবনে শুভ প্রভাব পড়ে।