Married women tips: আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরলেই সুখী দাম্পত্য! কোন আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরবেন?
Sindoor astrology: হিন্দু ধর্মে সিঁদুর সধবা হওয়ার অন্যতম প্রধান চিহ্ন। অনেকেই স্টিক বা চিরুনি দিয়ে সিঁদুর পরতে পছন্দ করেন, কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে সম্পূর্ণ অন্য কথা। শাস্ত্র মতে, চিরুনি নয়, বরং আঙুলের ছোঁয়াতেই লুকিয়ে রয়েছে দাম্পত্যের আসল সুখ। ঠিক কোন আঙুলে সিঁদুর পরলে স্বামীর মঙ্গল ও সংসারে শান্তি বজায় থাকে, বিস্তারিত জেনে নিন।

হিন্দু ধর্মে বিবাহিত নারীদের কাছে সিঁদুর কেবল একটি সাধারণ প্রসাধন নয়, এটি সধবা হওয়ার অন্যতম প্রধান চিহ্ন। বিশ্বাস করা হয়, সিঁদুরের লাল বা কমলা রঙের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্থতা এবং সম্পর্কের অটুট গভীরতা। আজকাল অনেকেই দোকান থেকে কেনা কৌটোর সঙ্গে দেওয়া স্টিক বা চিরুনি দিয়ে সিঁদুর পরতে পছন্দ করেন। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। শাস্ত্র মতে, চিরুনি বা স্টিক নয়, আঙুলের ছোঁয়াতেই সিঁদুর পরার আসল মাহাত্ম্য লুকিয়ে রয়েছে। রোজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সিঁদুর তো পরছেন, কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ঠিক কোন আঙুলটি ব্যবহার করছেন?
জ্যোতিষবিদদের মতে, সিঁদুর পরার ক্ষেত্রে প্রতিটি আঙুলের আলাদা আলাদা প্রভাব রয়েছে। ভুল আঙুলের ব্যবহার যেমন সংসারে অশান্তি ডেকে আনতে পারে, তেমনই সঠিক আঙুলের ছোঁয়ায় দাম্পত্য হয়ে উঠতে পারে আরও মধুর। জেনে নিন কোন আঙুলে সিঁদুর পরলে কী হয়? কী বলছে শাস্ত্র?
তর্জনী: বৃহস্পতি গ্রহের সঙ্গে তর্জনীর এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। শাস্ত্র বলছে, এই আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া চমৎকার হয়। সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনাও বৃদ্ধি পায়। তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, তর্জনী দিয়ে নিয়মিত সিঁদুর পরলে মনের মধ্যে অহংকার বা দম্ভ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এই বিষয়ে সামান্য সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মধ্যমা: মধ্যমা আঙুলটি শনি গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। জ্যোতিষীদের মতে, এই আঙুল দিয়ে সিঁদুর পরা দাম্পত্য জীবনের জন্য অত্যন্ত শুভ। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান অটুট থাকে। একে অপরের ইচ্ছা এবং অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। সবচেয়ে বড় কথা হল, এর ফলে কেবল স্ত্রীর নয়, স্বামীর মনেও তাঁর জীবনসঙ্গিনীর প্রতি কর্তব্যবোধ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
অনামিকা: অনামিকা আঙুলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে সূর্যের সঙ্গে। হিন্দুশাস্ত্রে এই আঙুলটিকেই সিঁদুর পরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং শুভ বলে মনে করা হয়। অনামিকা দিয়ে সিঁদুর পরলে সংসারে সর্বদা সুখশান্তি বজায় থাকে। শুধু তাই নয়, এর ফলে স্বামীর কর্মজীবনে বা পেশাগত ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি লাভের পথও প্রশস্ত হয়।
কনিষ্ঠা: কনিষ্ঠা আঙুলটি বুধ গ্রহের প্রতিনিধিত্ব করে। সচরাচর এই আঙুল দিয়ে কাউকে সিঁদুর পরতে দেখা যায় না বললেই চলে। তবে শাস্ত্র অনুযায়ী এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে এই আঙুল কখনও ব্যবহার করা যাবে না। বলা হয়, কনিষ্ঠার মাধ্যমে সিঁদুর পরলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগের উন্নতি হয় এবং মনের ভাব আদানপ্রদানে কোনও সমস্যা থাকে না।
বৃদ্ধাঙ্গুলি: হিন্দুশাস্ত্রে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে সিঁদুর পরার কোনও চল নেই। জ্যোতিষ মতে, বিশেষ কোনও কারণ বা আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া নিত্যদিনের জীবনে এই আঙুলের ব্যবহার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বিবাহিত জীবনের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এই ছোটখাটো নিয়মগুলি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তাই আগামী দিনে সিঁদুরের কৌটো খোলার সময়, শাস্ত্রের এই নির্দেশিকা মাথায় রাখলে দাম্পত্য জীবন নিশ্চিতভাবেই আরও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।
