Mythology: প্যাঁচাকে তো অনেকে অশুভ ভাবেন, তাহলে মা লক্ষ্মীর বাহন কীভাবে হল?
Diwali 2026: অনেকে প্যাঁচাকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক বলে মানেন। কিন্তু সেই প্যাঁচাই সম্পদের দেবীর সঙ্গে পূজিত হয়। যাকে অনেকে ভয় পেয়ে তাড়িয়ে দেন, সে কীভাবে মা লক্ষ্মীর বাহন হয়ে উঠল? জেনে নিন সেই গল্প।

যখন মা লক্ষ্মীর পুজো হয়, তখন তাঁর বাহন প্যাঁচাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনিতে এই পাখিকে সমাজে অনেকে অশুভ বা দুর্ভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। বাড়ির ছাদে বা জানলার কার্নিশে বসলে অনেকেই ভয় পেয়ে তাড়িয়ে দেন। মনে করা হয়, প্যাঁচা নাকি বিপদের লক্ষণ! তাহলে যাকে সমাজে এত অশুভ মানা হয়, সে হঠাৎ মা লক্ষ্মীর মতো সম্পদের দেবীর বাহন হল কীভাবে? এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক দারুণ গল্প। আসুন, সেই গল্পটাই আজ শোনা যাক।
কী বলছে পুরাণ?
সে অনেক কাল আগের কথা। কথিত আছে একবার সব দেবদেবী এবং পশু-পাখিরা মা লক্ষ্মীর কাছে গিয়ে হাজির হলেন। সবার মনে একটাই ইচ্ছে, সম্পদের দেবীর বাহন হবে। মা লক্ষ্মী পড়লেন মহা ফাঁপড়ে। তবে তিনি কাউকে নিরাশ করলেন না। শুধু একটা শর্ত দিলেন। তিনি বলেন যে, সামনের কার্তিক অমাবস্যার রাতে তিনি পৃথিবীতে যাবেন। সেদিন ঘুটঘুটে অন্ধকারে যে তাঁকে সবার আগে দেখতে পাবে, তাকেই তিনি তাঁর বাহন হিসেবে বেছে নেবেন।
কীভাবে বাজিমাত করল প্যাঁচা?
দিন গড়িয়ে এল সেই কার্তিক অমাবস্যা। দেবী লক্ষ্মী শর্ত অনুযায়ী পৃথিবীতে পা রাখলেন। অমাবস্যার সেই রাত ছিল নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। চারদিকে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। সব পশু-পাখি অন্ধকারে পথ হাতড়াচ্ছে। কিন্তু প্যাঁচার তো রাতের বেলাতেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি! সেই গাঢ় অন্ধকারের মধ্যেও সে ঠিক দেবীকে দেখতে পেল। একটুও সময় নষ্ট না করে সে উড়ে গেল মা লক্ষ্মীর কাছে। দেবীর বাহন হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করল। প্যাঁচার এই একাগ্রতা আর তীক্ষ্ণ নজর দেখে দেবী লক্ষ্মী খুব খুশি হলেন। আর সেই রাতেই প্যাঁচাকে নিজের চিরস্থায়ী বাহন হিসেবে বেছে নিলেন তিনি।
প্যাঁচাকে নিয়ে মানুষের এত ভয় কেন?
আসলে প্যাঁচা রাতের পাখি। তার বড় বড় গোল চোখ, নিঃশব্দে ওড়া আর রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ডেকে ওঠা, সব মিলিয়ে মানুষের মনে একটা ভয় তৈরি করে। পুরনো দিনে রাতের অন্ধকারকে মানুষ ভয় পেত, আর সেই অজানা ভয় থেকেই প্যাঁচাকে বিপদের লক্ষণ ধরা শুরু হয়। কিন্তু আধ্যাত্মিক দিক থেকে এর আসল সত্যিটা হল, প্যাঁচা অন্ধকারের মধ্যেও পথ দেখতে পায়। ঠিক তেমনই, মানুষের হাতে যখন প্রচুর টাকা-পয়সা আসে, তখন সে যেন অহংকারে অন্ধ না হয়ে যায়। নিজের বিবেক আর বুদ্ধি দিয়ে যেন ঠিক রাস্তা চিনে নিতে পারে, প্যাঁচা আসলে তারই প্রতীক।
দীপাবলিতে প্যাঁচার গুরুত্ব
এই কারণেই দীপাবলির রাতে প্যাঁচা দেখতে পাওয়া খুব শুভ লক্ষণ। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই রাতে প্যাঁচা চোখে পড়লে সংসারে আর কোনও অভাব থাকে না। সারা বছর মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ ঝরে পড়ে সেই বাড়িতে। তাই লোকমুখে শোনা যায়, প্যাঁচা দেখলে ভয় পেয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে দেওয়া সমস্ত তথ্য প্রচলিত ধর্মীয় কাহিনি এবং সাধারণ লোকবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা। টিভি৯ বাংলা (TV9 Bangla) নিজস্বভাবে এর কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যতা বা প্রামাণিকতা দাবি করে না।
