জন্ম কুণ্ডলিতেই রয়েছে মৃত্যুর ইঙ্গিত! কিভাবে সতর্ক হবেন?

আধুনিক গবেষণা বলছে— দীর্ঘমেয়াদি রোগ, জীবনযাপন, মানসিক চাপ ও চিকিৎসার অভাবই মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই বহু ক্ষেত্রেই “ঝুঁকির দশা” চললেও সঠিক চিকিৎসায় মানুষ সুস্থ জীবন কাটিয়েছেন জ্যোতিষে মৃত্যুর ইঙ্গিত মানে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

জন্ম কুণ্ডলিতেই রয়েছে মৃত্যুর ইঙ্গিত! কিভাবে সতর্ক হবেন?

Jan 20, 2026 | 3:42 PM

মৃত্যু নিয়ে কৌতূহল ও আতঙ্ক- দুটোই মানুষের চিরন্তন সঙ্গী। জ্যোতিষশাস্ত্রে মৃত্যুর প্রসঙ্গ থাকলেও, তা কি সত্যিই নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী? নাকি শুধুই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়? শাস্ত্র,গবেষণা ও আধুনিক জ্যোতিষীদের মতামত বলছে জ্যোতিষ ভয় দেখায় না, সতর্ক করে।

জ্যোতিষে মৃত্যুর বিচার কীভাবে করা হয়?

শাস্ত্রীয় জ্যোতিষে কোনও ব্যক্তির মৃত্যু নির্ধারণ কখনও একটি মাত্র যোগ বা গ্রহ দেখে করা হয় না। বরং একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিচার করা হয়।
বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্রের ৪৪ নম্বর অধ্যায় অনুযায়ী
এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘর
৮ম ঘর – আয়ু, দুর্ঘটনা, হঠাৎ বিপদ
২য় ও ৭ম ঘর – মারক ঘর (Maraka House)
১২তম ঘর – হাসপাতাল, ক্ষয়, নিঃসঙ্গতা

কোন গ্রহসংযোগকে ঝুঁকির ইঙ্গিত বলা হয়?
জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু পরিস্থিতিকে “মৃত্যুর সম্ভাব্য সময়কাল” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে চূড়ান্ত ফল বলা নিষিদ্ধ। তাই সেটি কেউই বলতে পারেন না।

জাতক পারিজাত অনুযায়ী

২য় বা ৭ম ঘরের অধিপতি গ্রহের দশায় শারীরিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলদীপিকা অনুযায়ী ৮ম ঘরে পাপগ্রহের প্রভাব
শনি, রাহু, কেতু বা মঙ্গলের অবস্থান বা দৃষ্টি, হঠাৎ বিপদের সম্ভাবনা বাড়ায়।

কীভাবে সতর্ক করেছে শাস্ত্র?

বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্রে নির্দেশ রয়েছে—
“অকালমৃত্যু নির্ণয় গোপনীয় ও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত।” অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো বা নির্দিষ্ট মৃত্যুর সময় বলা শাস্ত্রবিরুদ্ধ।

আধুনিক গবেষণা বলছে—
দীর্ঘমেয়াদি রোগ, জীবনযাপন, মানসিক চাপ ও চিকিৎসার অভাবই মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই বহু ক্ষেত্রেই “ঝুঁকির দশা” চললেও সঠিক চিকিৎসায় মানুষ সুস্থ জীবন কাটিয়েছেন

জ্যোতিষে মৃত্যুর ইঙ্গিত মানে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
এটি একটি সতর্কবার্তা যাতে মানুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, জীবনযাপনে পরিবর্তন আনেন, মানসিকভাবে শক্ত থাকেন।