AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Maha Shivratri 2026: শিবরাত্রিতে পুণ্য অর্জনের জন্য এই ৫ মন্দির ঘুরে আসতে পারেন

গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন মন্দির—সবখানেই এখন মহাদেবের আরাধনা। আপনিও যদি এই পুণ্য তিথিতে কোনো জাগ্রত শিবলিঙ্গে জল ঢেলে আশীর্বাদ নিতে চান, তবে বাংলার এই মন্দিরগুলো হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য। প্রতিটি মন্দিরের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস ও গভীর মাহাত্ম্য।

Maha Shivratri 2026: শিবরাত্রিতে পুণ্য অর্জনের জন্য এই ৫ মন্দির ঘুরে আসতে পারেন
| Updated on: Feb 14, 2026 | 3:49 PM
Share

ফাল্গুনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে শিবরাত্রির উৎসবে মাতোয়ারা বাংলা। গঙ্গার ঘাট থেকে শুরু করে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন মন্দির—সবখানেই এখন মহাদেবের আরাধনা। আপনিও যদি এই পুণ্য তিথিতে কোনো জাগ্রত শিবলিঙ্গে জল ঢেলে আশীর্বাদ নিতে চান, তবে বাংলার এই মন্দিরগুলো হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য। প্রতিটি মন্দিরের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস ও গভীর মাহাত্ম্য।

১. তারকেশ্বর (হুগলি): ‘বাবা তারকনাথ’ ও ভক্তের বিশ্বাস বাংলার শিবচর্চার কথা বললেই সবার আগে আসে তারকেশ্বরের নাম। আঠারো শতকে রাজা ভারামল্ল এই মন্দির নির্মাণ করেন। এখানকার শিবলিঙ্গটি ‘স্বয়ম্ভূ’ (নিজেই উদ্ভূত)। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বাবা তারকনাথের কাছে নিষ্ঠাভরে মানত করলে কোনো ভক্তই খালি হাতে ফেরে না। শিবরাত্রিতে এখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়, যারা গঙ্গা থেকে জল এনে বাবার মাথায় ঢালেন।

২. বক্রেশ্বর (বীরভূম): উষ্ণ প্রস্রবণ ও আধ্যাত্মিক শক্তি বীরভূমের এই সতীপীঠ একইসাথে এক মহাপীঠ ও শৈবতীর্থ। এখানে ঋষি অষ্টাবক্র মহাদেবের তপস্যা করেছিলেন। বক্রেশ্বরে শিব ও শক্তি একসাথে বিরাজ করেন। এখানকার মন্দিরের পাশে থাকা উষ্ণ প্রস্রবণের জল অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। শিবরাত্রির দিন এই কুণ্ডে স্নান করে মহাদেবের পুজো দিলে শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

৩. জল্পেশ মন্দির (জলপাইগুড়ি): উত্তরবঙ্গের প্রধান শৈবপীঠ উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে অবস্থিত জল্পেশ মন্দির এক প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন। কোচ রাজবংশের আমলে এই মন্দিরের বর্তমান রূপ দেওয়া হয়েছিল। এখানে একটি বিশাল শিবলিঙ্গ রয়েছে যা মাটির অনেকটা নিচে অবস্থিত। শ্রাবণ মাস এবং শিবরাত্রিতে উত্তরবঙ্গের মানুষ তো বটেই, এমনকি নেপাল ও ভুটান থেকেও ভক্তরা এখানে জল ঢালতে আসেন। এটি উত্তরবঙ্গের ‘কাশী’ নামেও পরিচিত।

৪. কর্ণগড় ও চন্দ্রকোনা (মেদিনীপুর): ঐতিহাসিক শিবমন্দির পশ্চিম মেদিনীপুরের কর্ণগড় মন্দির চুয়াড় বিদ্রোহের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকলেও, এর ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে ‘অনাদিলিঙ্গ’ হিসেবে শিবের পুজো হয়। এছাড়াও মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় অবস্থিত মল্লেশ্বর মন্দির বা লালগড়ের রামগড় মন্দির শিবরাত্রির দিন আলোকসজ্জা ও মেলায় এক মায়াবী রূপ নেয়।

৫. একচক্রা ধাম ও রামপুরহাট (বীরভূম): আধ্যাত্মিকতার সংযোগ রামপুরহাটের কাছে একচক্রা গ্রামেও অত্যন্ত প্রাচীন শিবমন্দির রয়েছে। এছাড়া তারাপীঠের কাছাকাছি অবস্থিত থাকায় বহু ভক্ত এখানে ভিড় জমান। শাস্ত্রীয় মতে, এই পবিত্র ভূমি পাণ্ডবদের স্মৃতিবিজড়িত। এখানকার শিব মন্দিরে অত্যন্ত নিভৃতে ও শান্ত পরিবেশে ব্রত পালনের সুযোগ পাওয়া যায়।