Maha Shivratri 2026: শিবের পুজোয় ভুলেও দেবেন না এই ফুল

লাল রঙের অতিরিক্ত তেজযুক্ত বা তীব্র সুগন্ধ যুক্ত কিছু ফুল শিবের আরাধনায় এড়াতে বলা হয়। শিব বৈরাগ্য ও সংযমের প্রতীক। তিনি শ্মশানবাসী, ভস্মধারী, যোগেশ্বর। তাই তাঁর পুজোয় শীতল, সাদা ও সরল উপাচার বেশি প্রাধান্য পায়। শ্বেত ধুতুরা, অপরাজিতা, আকাশমণি প্রভৃতি ফুল অনেক জায়গায় গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।

Maha Shivratri 2026: শিবের পুজোয় ভুলেও দেবেন না এই ফুল
Image Credit source: AI

Feb 13, 2026 | 3:59 PM

ভোলানাথ অল্পেই সন্তুষ্ট একটু জল,  বেলপাতা আর ভক্তিভাবেই তাঁর আরাধনা সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু জানেন কি শাস্ত্রে এমন কিছু ফুলের উল্লেখ আছে, যা শিবপুজোয় দেওয়া একেবারেই বারণ। বিশেষ করে মহাশিবরাত্রি-র মতো পবিত্র তিথিতে এই নিয়ম মানা জরুরি বলে মনে করেন পুরোহিতরা।

শিবপুরাণে একটি সুপরিচিত কাহিনি রয়েছে। ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে একবার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তখন এক অসীম জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হন শিব। ব্রহ্মা উপরে এবং বিষ্ণু নীচে সেই জ্যোতির সীমা খুঁজতে যান। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কেউ শেষ খুঁজে পাননি। কিন্তু ব্রহ্মা দাবি করেন, তিনি শীর্ষে পৌঁছেছেন, এবং সেই দাবির পক্ষে সাক্ষ্য দেয় কেতকি ফুল। পুরাণ অনুযায়ী, কেতকি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিল। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে শিব কেতকি ফুলকে তাঁর পুজোয় চিরতরে নিষিদ্ধ করেন। এই কাহিনির ভিত্তিতেই বহু শৈব মন্দিরে আজও কেতকি অর্পণ করা হয় না।

চাঁপা ফুল নিয়েও সতর্কতা রয়েছে। অনেকে ভাবেন সুগন্ধি হলেই দেবতার পছন্দ হবে, কিন্তু শিবপুজোয় চাঁপা এড়িয়ে চলাই শাস্ত্রসম্মত। আবার তুলসীপাতা যা সাধারণত পুজোর অপরিহার্য অংশ তাও শিবের আরাধনায় ব্যবহার করা হয় না। কারণ তুলসী মূলত বিষ্ণুভক্তা হিসেবে পূজিতা, তাই শিবপুজোয় তা অনুচিত ধরা হয়।

এছাড়া লাল রঙের অতিরিক্ত তেজযুক্ত বা তীব্র সুগন্ধ যুক্ত কিছু ফুল শিবের আরাধনায় এড়াতে বলা হয়। শিব বৈরাগ্য ও সংযমের প্রতীক। তিনি শ্মশানবাসী, ভস্মধারী, যোগেশ্বর। তাই তাঁর পুজোয় শীতল, সাদা ও সরল উপাচার বেশি প্রাধান্য পায়। শ্বেত ধুতুরা, অপরাজিতা, আকাশমণি প্রভৃতি ফুল অনেক জায়গায় গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।

তাহলে কী ফুল দেবেন শিবকে?

বেলপাতা শিবের সবচেয়ে প্রিয়। তিন খণ্ড বেলপত্র ত্রিনেত্রের প্রতীক। ধুতুরা, আখের রস, কাঁচা দুধ, গঙ্গাজল এসবও শিব আরাধনায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ভোরবেলায় স্নান সেরে পরিষ্কার মনে পুজো করলে তার মাহাত্ম্য বাড়ে। এছাড়া ধুতুরা, আখের রস, কাঁচা দুধ, দই, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেকের উল্লেখ রয়েছে শিবপুরাণে। তবে এইসব উপাচারের মধ্যেও সবচেয়ে বড় হল ভক্তি। পুজো মানে শুধু নিয়ম মানা নয়, ভক্তির সঠিক প্রকাশ। তাই ভুল ফুল এড়িয়ে সঠিক উপাচারে ভোলানাথকে স্মরণ করলেই ভগবান সন্তুষ্ট হবেন।