
মানুষের এক চিরন্তন প্রশ্ন আমি কতদিন বাঁচব? জানেন এই কৌতূহল মেটানোর জন্য রয়েছে একটি বহু পুরনো পদ্ধতি? হস্তরেখা বিদ্যার মতে, বুড়ো আঙুলের পাশ দিয়ে যে বাঁকানো রেখা কবজির দিকে নেমে যায়, সেটিই ‘লাইফ লাইন’। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই রেখার দৈর্ঘ্য ও গভীরতার মধ্যেই নাকি লুকিয়ে আছে জীবনের হিসাব। নিজেই কীভাবে দেখবেন হাতের রেখা?
জ্য়োতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, লাইফ লাইনের শুরুকে ধরা হয় জন্ম। তর্জনী ও বুড়ো আঙুলের মাঝের জায়গা থেকে যেখানে রেখা শুরু হয়েছে, সেটাই শূন্য বছর ধরা হয়। তারপর পুরো রেখাটিকে কল্পনায় কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। উপরের অংশ ০ থেকে ৩০, মাঝামাঝি ৩০ থেকে ৫০, তার নিচে ৫০ থেকে ৭০—এভাবে কবজির দিকে এগোলে ৮০ বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত হিসাব ধরা হয়। নিজের সুবিধার্থে নিজের হাতে দাগ কেটে নিতে পারেন।
এই পদ্ধতিতে দেখা হয়, লাইফ লাইন ঠিক কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে। যদি রেখা কবজির খুব কাছে পর্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছয়, তাহলে দীর্ঘায়ুর ইঙ্গিত ধরা হয়। মাঝপথে যদি রেখা ফিকে হয়ে যায় বা ভেঙে যায়, তাহলে সেই জায়গার বয়স পর্যন্ত আয়ু ধরা হয়। অনেকেই আবার লাইনের কাটাকুটি বা দ্বিখণ্ডনকে জীবনের বড় পরিবর্তন, অসুস্থতা বা চ্যালেঞ্জের সময় হিসেবে ধরেন।
তবে এখানে একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—এই হিসেব সম্পূর্ণ বিশ্বাসভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা-নির্ভর বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পদ্ধতি নয়। আয়ু নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, মানসিক চাপ, চিকিৎসা সুবিধা এবং পরিবেশের উপর। অর্থাৎ হাতে রেখা যেমন আছে, তেমনই আছে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসের ছাপও।
তবু হাতের রেখা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে না। কারণ ভবিষ্যৎ জানার আকাঙ্ক্ষা মানুষের স্বভাবের অংশ। কেউ এটাকে সংস্কৃতি, কেউ আধ্যাত্মিক চর্চা, কেউ আবার নিছক কৌতূহল হিসেবে দেখেন। অনেকের মনেই শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকে যায় আয়ু কি সত্যিই তালুর বাঁকে লুকিয়ে?