Maha Shivratri Shloka: শিবলিঙ্গে জল ঢালার সময় কোন মন্ত্র উচ্চারণ করবেন?
সবচেয়ে প্রচলিত এবং সহজ মন্ত্র হল “ওঁ নমঃ শিবায়।” এই পাঁচ অক্ষরের মন্ত্রকে পঞ্চাক্ষর মন্ত্র বলা হয়। যজুর্বেদের ‘শ্রী রুদ্রম’ অংশে রুদ্রের আরাধনায় এই মন্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। শাস্ত্র মতে, এই মন্ত্র জপ করলে মন শান্ত হয়, অহং দূর হয় এবং আত্মিক উন্নতি ঘটে। অনেক আচার্য বলেন, প্রতিদিন ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করে জল অর্পণ করলে বিশেষ শুভ ফল পাওয়া যায়।

শিবলিঙ্গে জল ঢালা শুধু একটি প্রথা নয়, এটি হিন্দু ধর্মে এক গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অভিষেক’। বৈদিক শাস্ত্র, বিশেষ করে ঋগ্বেদ ও যজুর্বেদের বিভিন্ন অংশে রুদ্রোপাসনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে মন্ত্রসহ আরাধনার গুরুত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। বিশেষত মহাশিবরাত্রি-র রাতে শিবলিঙ্গে জল অর্পণ করলে তা বহু গুণ ফলদায়ক হয় বলে বিশ্বাস। জানেন কী সেই মন্ত্র?
সবচেয়ে প্রচলিত এবং সহজ মন্ত্র হল “ওঁ নমঃ শিবায়।” এই পাঁচ অক্ষরের মন্ত্রকে পঞ্চাক্ষর মন্ত্র বলা হয়। যজুর্বেদের ‘শ্রী রুদ্রম’ অংশে রুদ্রের আরাধনায় এই মন্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়। শাস্ত্র মতে, এই মন্ত্র জপ করলে মন শান্ত হয়, অহং দূর হয় এবং আত্মিক উন্নতি ঘটে। অনেক আচার্য বলেন, প্রতিদিন ১০৮ বার এই মন্ত্র জপ করে জল অর্পণ করলে বিশেষ শুভ ফল পাওয়া যায়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র হল মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র—
“ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্। উর্বারুকমিব বন্দনান্ মৃত্যোর্মোক্ষীয় মাহমৃতাৎ॥”
ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডলে এই মন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে। এটি দীর্ঘায়ু, রোগমুক্তি এবং ভয়মুক্তির প্রার্থনায় ব্যবহৃত হয়। শাস্ত্রমতে, এই মন্ত্র জপ করে শিবলিঙ্গে জল ঢাললে দেহ ও মন ভালো থাকে।
আবার অভিষেকের নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্রে শিবলিঙ্গের উপর ডান হাতে ধীরে ধীরে জল অর্পণ করতে বলা হয়েছে। জল যেন প্রবাহমান থাকে, হঠাৎ ঢেলে না দেওয়া হয়। মন একাগ্র রেখে মন্ত্র জপ করা আবশ্যক। শিবপুরাণে উল্লেখ আছে, সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে অভিষেক করলে তা বেশি ফলদায়ক হয়।
এছাড়া “ওঁ শম্ভবায় নমঃ”, “ওঁ মহাদেবায় নমঃ”, “ওঁ রুদ্রায় নমঃ” মন্ত্রও অনেক স্থানে প্রচলিত। তবে পঞ্চাক্ষর মন্ত্র সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন শুধু মুখে মন্ত্র উচ্চারণ নয়, মনে তার অর্থ ধারণ করা জরুরি।
