Maha Shivratri 2026: শিবরাত্রির চার প্রহর, শুধুই জল ঢাললে চলবে না, শিবকে তুষ্ট করার সঠিক নিয়ম জেনে নিন

ফাল্গুনী কৃষ্ণচতুর্দশী তিথিতে আপামর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মেতে ওঠেন দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায়। শাস্ত্র মতে, শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে মোক্ষ লাভ হয় এবং জীবনের সব অন্ধকার দূরীভূত হয়। কিন্তু কীভাবে করবেন সঠিক উপচারে পুজো? কেনই বা প্রতিটি আচারের এত গুরুত্ব? জেনে নিন শাস্ত্রীয় বিধান।

Maha Shivratri 2026: শিবরাত্রির চার প্রহর, শুধুই জল ঢাললে চলবে না,  শিবকে তুষ্ট করার সঠিক নিয়ম জেনে নিন
Image Credit source: Unplash

|

Feb 14, 2026 | 3:32 PM

‘ওঁ নমঃ শিবায়’—এই মহামন্ত্রে মুখরিত চারদিক। ফাল্গুনী কৃষ্ণচতুর্দশী তিথিতে আপামর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মেতে ওঠেন দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায়। শাস্ত্র মতে, শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে মোক্ষ লাভ হয় এবং জীবনের সব অন্ধকার দূরীভূত হয়। কিন্তু কীভাবে করবেন সঠিক উপচারে পুজো? কেনই বা প্রতিটি আচারের এত গুরুত্ব? জেনে নিন শাস্ত্রীয় বিধান।

শিবরাত্রির দিন ভক্তরা সাধারণত নির্জলা বা ফলমূল খেয়ে উপবাস রাখেন। পুজোর আগে ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করা বাঞ্ছনীয়। এটি কেবল শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং মনের একাগ্রতা ও শুদ্ধির প্রতীক।

চার প্রহরের পুজো বিধি ও গুরুত্ব
শিবরাত্রির বিশেষত্ব হলো চার প্রহরের পুজো। সূর্যাস্তের পর থেকে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর শিবলিঙ্গে অভিষেক করা হয়।

জল ও গঙ্গাজল: শিব হলেন ‘আশুতোষ’, অর্থাৎ অল্পেই তুষ্ট। তাঁর মাথায় জল ঢালা হয় উত্তপ্ত হলাহল বিষের জ্বালা শান্ত করার স্মরণে। এটি আত্মার শুদ্ধিকরণও বোঝায়।

বেলপাতা: তিনটি পাতা যুক্ত একটি বেলপাতা স্বত্ত্ব, রজ ও তম—এই তিন গুণের উর্ধ্বে যাওয়ার প্রতীক। বলা হয়, ভক্তিভরে একটি বেলপাতা অর্পণ করলে সহস্র জন্মের পাপক্ষয় হয়।

আকন্দ ও ধুতুরা ফুল: মহাদেব বৈরাগী। তাই দামী ফুলের চেয়ে সাধারণ ও বুনো ফুলেই তিনি বেশি তুষ্ট হন। এটি শেখায় যে, আড়ম্বর নয়, ভক্তিই আসল।

বিভূতি: মহাদেবের অঙ্গে ভস্ম থাকে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জগত নশ্বর এবং অন্তিমে সব কিছুই ছাই বা ভস্মে পরিণত হবে।

আতপ চাল: এটি অখণ্ডতা ও পূর্ণতার প্রতীক। শিবলিঙ্গে চাল অর্পণ করে ভক্তরা জীবনে পূর্ণতা প্রার্থনা করেন।

প্রহর অভিষেকের দ্রব্য আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
প্রথম প্রহর দুধ – সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায়।
দ্বিতীয় প্রহর দই- সুখ ও পারিবারিক সমৃদ্ধির জন্য।
তৃতীয় প্রহর ঘি- বিদ্যা ও জ্ঞান লাভের আশীর্বাদ।
চতুর্থ প্রহর মধু – পাপ মুক্তি ও মোক্ষ লাভের প্রতীক।

মনে রাখুন কয়েকটি নিয়ম

১. মুখের দিক: পুজোর সময় উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসা শুভ বলে মনে করা হয়।
২. অভিষেক: তামার পাত্রে দুধ দেবেন না; দুধ বা দইয়ের জন্য কাঁসা বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন। তবে গঙ্গাজল বা সাধারণ জলের জন্য তামা শ্রেষ্ঠ।
৩. প্রদক্ষিণ: শিবলিঙ্গ প্রদক্ষিণ করার সময় মনে রাখবেন, কখনওই পুরো চক্কর দিতে নেই। ‘সোমসূত্র’ বা যেখানে দিয়ে জল বেরিয়ে যায়, তা পার না হয়ে অর্ধ-প্রদক্ষিণ করতে হয়।
৪. মন্ত্র জপ: পুজোর পুরো সময় ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্রটি মনে মনে বা মৃদু স্বরে জপ করলে মানসিক শান্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়।

শিবরাত্রি কেবল উপবাসের দিন নয়, এটি নিজের ভেতরের ‘শিব’ বা শুভ চেতনাকে জাগিয়ে তোলার দিন। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে শ্রদ্ধাভরে পুজো করলে ভক্তের সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে।