Maha Shivratri 2026: শিবরাত্রিতে নির্জলা উপোস করবেন না ভাবছেন? এসব খেয়েই করতে পারেন মহাদেবের আরাধনা
তবে শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেকেই 'ফলার' বা নিরামিষ আহার বেছে নেন। এই দিনটিতে চাল, ডাল বা সাধারণ লবণের পরিবর্তে সৈন্ধব লবণ, ফল এবং সাবুদানা খাওয়ার চল রয়েছে। আধ্যাত্মিক মতে, ব্রতের সময় সাত্ত্বিক আহার মনকে শান্ত রাখে এবং ধ্যানে মনঃসংযোগ করতে সাহায্য করে।

ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি। দেবাদিদেব মহাদেব ও মা পার্বতীর মিলনের এই পুণ্য লগ্নকে কেন্দ্র করে সারা দেশ মেতে উঠেছে মহা শিবরাত্রির উৎসবে। হিন্দু ধর্মে এই দিনটির মাহাত্ম্য অপরিসীম। সারাদিন উপবাস থেকে চার প্রহরের পুজো শেষে অনেকেই ফলার বা সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। শিবরাত্রির এই ব্রত উদযাপনে যেমন রয়েছে আধ্যাত্মিক গুরুত্ব, তেমনই রয়েছে বিশেষ কিছু খাবারের ঐতিহ্য।
শিবরাত্রিতে সাধারণত ভক্তরা নির্জলা উপবাস রাখেন। তবে শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেকেই ‘ফলার’ বা নিরামিষ আহার বেছে নেন। এই দিনটিতে চাল, ডাল বা সাধারণ লবণের পরিবর্তে সৈন্ধব লবণ, ফল এবং সাবুদানা খাওয়ার চল রয়েছে। আধ্যাত্মিক মতে, ব্রতের সময় সাত্ত্বিক আহার মনকে শান্ত রাখে এবং ধ্যানে মনঃসংযোগ করতে সাহায্য করে।
শিবরাত্রির ভোজে আপনি অনায়াসেই তৈরি করতে পারেন এই পদগুলো:
১. কেশর-বাদাম সাবুদানার খিচুড়ি সাবুদানা শিবরাত্রির সবথেকে জনপ্রিয় উপাদান। এটি কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস, যা উপবাসের ক্লান্তি দূর করে।
উপকরণ: সাবুদানা, চিনেবাদাম, ঘি, জিরে, কাঁচালঙ্কা, আলু ডুমো করে কাটা এবং সৈন্ধব লবণ।
পদ্ধতি: সাবুদানা ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। কড়াইতে ঘি গরম করে জিরে ও কাঁচালঙ্কা ফোঁড়ন দিন। আলু ও বাদাম ভেজে নিয়ে ভেজানো সাবুদানা মিশিয়ে দিন। নামানোর আগে অল্প গোলমরিচ গুঁড়ো ও ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন।
২. আটার হালুয়া বা শকরকন্দি চাট মিষ্টি পদের মধ্যে রাঙা আলু বা শকরকন্দি অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
পদ্ধতি: সেদ্ধ করা রাঙা আলু ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এতে সামান্য লেবুর রস, বিট নুন (সৈন্ধব) ও ভাজা জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে চাট হিসেবে পরিবেশন করুন। এটি তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে অনন্য।
৩. ঠান্ডাই (শিবের প্রিয় পানীয়)
মহাদেবের প্রসাদ হিসেবে ঠান্ডাইয়ের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। তবে এটি মূলত বিভিন্ন ভেষজ ও বাদামের মিশ্রণ যা শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
উপকরণ: দুধ, চিনি, কাজু, পেস্তা, আমন্ড, মৌরি, এলাচ ও গোলাপের পাপড়ি।
পদ্ধতি: সব কটি শুকনো উপকরণ সারারাত ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। এরপর ঠান্ডা দুধের সাথে মিশিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিলেই তৈরি সুস্বাদু ঠান্ডাই।
কেন পালন করা হয় এই উৎসব?
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এই দিনেই শিব ও শক্তি একীভূত হয়েছিলেন। আবার অনেকের মতে, সমুদ্র মন্থনের সময় বিষ পান করে নীলকণ্ঠ জগতকে রক্ষা করেছিলেন এই তিথিতেই। তাই ভক্তিভরে শিবের মাথায় জল ও বেলপাতা ঢেলে পরম শান্তির কামনা করেন ভক্তরা।
শহর থেকে গ্রাম— শিবরাত্রির এই আমেজ মিশে যায় সাবেকি রান্নার গন্ধে। নিয়ম মেনে ব্রত পালন আর শেষে তৃপ্তিদায়ক এই খাবারগুলো উৎসবের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।
