AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

ঠাকুরকে ফুল দেওয়ার সময় আপনিও কি এই ভুলগুলো করছেন? সাবধান!

মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে আমরা অনেকেই তাড়াহুড়ো করেন। অনেকে আবার দোকান থেকে ফুল-মিষ্টি নিয়ে সোজা গর্ভগৃহে চলে যান। ভাবেন, পুজো দিয়ে ফেরার পথে দাম মিটিয়ে দেবেন। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এটি অত্যন্ত বড় একটি ভুল। নিয়ম বলছে, যতক্ষণ না আপনি কোনও জিনিসের দাম মেটাচ্ছেন, ততক্ষণ সেই বস্তুর ওপর আপনার পূর্ণ অধিকার জন্মায় না।

ঠাকুরকে ফুল দেওয়ার সময় আপনিও কি এই ভুলগুলো করছেন? সাবধান!
Image Credit: AI
| Updated on: Mar 05, 2026 | 6:48 PM
Share

গাছ থেকে সদ্য তোলা টাটকা ফুল হোক বা বাজারের কেনা লাল টকটকে জবা— দেবতার চরণে ফুল না দিলে যেন পুজোর ষোলোআনা পূর্ণ হয় না। অনেকেই বিশ্বাস করেন, সুগন্ধি এই পুষ্পার্ঘ্যেই তুষ্ট হন ইষ্টদেবতা। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার অজান্তেই করা ছোট একটি ভুল, ভণ্ডুল করে দিতে পারে গোটা পুজোর পুণ্যফল? শুনতে অবাক লাগলেও, শাস্ত্র মতে ফুল অর্পণের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যাঁরা ভক্তিভরে পুজো দিলেও নিয়ম পালনে ভুল করে বসেন শাস্ত্র অনুযায়ী তাঁরা দেবতার আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ঠিক কোন কোন বিষয় মাথায় না রাখলে আপনার দেওয়া ফুল ঠাকুর গ্রহণ করবেন না? আসুন জেনে নিই জ্যোতিষশাস্ত্রের সেই জরুরি টোটকা।

ফুল কেনার আগেই কি টাকা দিচ্ছেন?

মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে আমরা অনেকেই তাড়াহুড়ো করেন। অনেকে আবার দোকান থেকে ফুল-মিষ্টি নিয়ে সোজা গর্ভগৃহে চলে যান। ভাবেন, পুজো দিয়ে ফেরার পথে দাম মিটিয়ে দেবেন। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এটি অত্যন্ত বড় একটি ভুল। নিয়ম বলছে, যতক্ষণ না আপনি কোনও জিনিসের দাম মেটাচ্ছেন, ততক্ষণ সেই বস্তুর ওপর আপনার পূর্ণ অধিকার জন্মায় না। ফলে, আপনি যদি দাম না মিটিয়ে সেই ফুল ঠাকুরকে দেন, তবে সেই পুজোর পুণ্য আপনার ঝুলিতে যাবে না; বরং তার ফল পাবেন ওই বিক্রেতা। তাই দেবতার চরণে ফুল নিবেদনের আগে অবশ্যই দোকানদারকে পয়সা মিটিয়ে দিন। তবেই সেই অর্ঘ্য সার্থক হবে।

জলে ধুয়ে ফুল পবিত্র করছেন? হিতে বিপরীত হতে পারে!

বাড়ির বাগান থেকে ফুল তুলে আনার পর অনেকেরই অভ্যাস থাকে তা বালতি বা ঘটির জলে ডুবিয়ে ধুয়ে নেওয়া। অনেকেই ভাবেন এতে ফুলটি শুদ্ধ হয়। কিন্তু শাস্ত্রীয় বিধান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। জ্যোতিষীদের মতে, ফুল যখনই আপনি জলে ডোবাচ্ছেন, তখনই সেটি ‘জলদেবতা’র উদ্দেশে অর্পণ করা হয়ে যাচ্ছে। আর একবার এক দেবতাকে নিবেদন করা জিনিস অন্য কোনও দেবতার পুজোয় ব্যবহার করা অনুচিত। ফুল প্রকৃতির দান, এটি নিজেই শুদ্ধ। তাই তাকে আলাদা করে জলে ধুয়ে ‘পবিত্র’ করার প্রয়োজন নেই। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ফুল শুধু পুজোর উপকরণ নয়, এটি মনের শান্তির প্রতীকও বটে। সুসজ্জিত ফুলের সাজ দেখলে যেমন আমাদের মন ভালো হয়ে যায়, তেমনই পুজোর স্থানে তৈরি হয় এক পজিটিভ এনার্জি বা ইতিবাচক পরিবেশ। তবে সেই ফুল যদি শাস্ত্রসম্মত ভাবে অর্পণ না করা হয়, তবে দেবতারা সেই উপহার গ্রহণ করেন না। তাই ভক্তির পাশাপাশি এই ছোট ছোট নিয়মগুলো মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন।

পরের বার যখন পুজোর প্রস্তুতি নেবেন, এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন। দেখবেন, আধ্যাত্মিক শান্তির পাশাপাশি আপনার পুজোর ফলও হবে যথাযথ।