Sawan 2026 Grahan: শ্রাবণে পরপর দুটি গ্রহণ! মহাদেব ভক্তদের জন্য কি ঘনিয়ে আসছে বড় কোনও বিপদ?
Sawan 2026 eclipses impact on India: পবিত্র শ্রাবণ মাসে এবার পরপর দুটি গ্রহণ লাগতে চলেছে আকাশের বুকে। ১২ আগস্ট সূর্য গ্রহণ এবং তার ১৫ দিনের মাথায় ২৮ আগস্ট চন্দ্র গ্রহণ। এই জোড়া মহাজাগতিক ঘটনার জেরে কি কোনও বিপদের সংকেত রয়েছে? ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, জেনে নিন বিশদে।

দেবতা ভগবান শিব (Lord Shiva)-এর অত্যন্ত প্রিয় এবং পবিত্র সময় হল শ্রাবণ মাস (Sawan 2026)। প্রতি বছর এই সময়ে চারদিকের পরিবেশ ভক্তি আর আধ্যাত্মিকতায় ভরে ওঠে। মহাদেব ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এই বিশেষ দিনগুলির জন্য। তবে ২০২৬ সালের এই পবিত্র মাসের আবহের সঙ্গে এবার মিশে গিয়েছে এক অদ্ভুত জ্যোতিষীয় আশঙ্কা। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই বছর শ্রাবণ মাস শুরু হচ্ছে ৩০ জুলাই এবং শেষ হবে ২৮ আগস্ট। এই ৩০ দিনের মধ্যেই আকাশের বুকে ঘটতে চলেছে এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি গ্রহণ লাগতে চলেছে এবার, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানান প্রশ্ন।
জ্যোতিষ শাস্ত্রের গণনা অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় তথা শেষ সূর্য গ্রহণটি লাগবে আগামী ১২ আগস্ট, অমাবস্যা তিথিতে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই গ্রহণ শুরু হবে রাত ৮টা বেজে ৪ মিনিটে এবং শেষ হবে মধ্যরাত ১টা বেজে ৭ মিনিটে। এর ঠিক ১৫ দিন পর, অর্থাৎ ২৮ আগস্ট শ্রাবণী পূর্ণিমার দিন সকালের আকাশে লাগবে চন্দ্র গ্রহণ। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই গ্রহণ সকাল ৮টা বেজে ৪ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হবে বেলা ১১টা বেজে ২২ মিনিটে। মাত্র ১৫ দিনের এই সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে সূর্য ও চন্দ্রের ওপর রাহু – কেতুর এই প্রভাবকে সনাতন ধর্মে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়।
সনাতন ধর্মে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রে এত কম সময়ের মধ্যে দুটি গ্রহণ লাগাকে কখনও শুভ চোখে দেখা হয় না। মনে করা হয়, এর ফলে প্রকৃতি এবং মানব সমাজে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব অনেকটাই বেড়ে যায়। প্রাচীন ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মহাভারতের মহাযুদ্ধের আগেও ঠিক এইরকমই ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি গ্রহণ লেগেছিল। এই ধরনের বিরল যোগকে সাধারণত প্রাকৃতিক বিপর্যয়, তীব্র মূল্যবৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা বড় কোনও সংকটের সূচক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে এই মহাজাগতিক পরিস্থিতি মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ভয়ের জন্ম দিয়েছে।
তবে এই জোড়া গ্রহণের জেরে কি মহাদেব ভক্তদের পূজাপাঠে কোনও বাধা আসবে? এই প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতিষবিদরা কিন্তু বড়সড় স্বস্তির কথা শুনিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই দুটি গ্রহণের কোনওটিই ভারত থেকে দেখা যাবে না। যেহেতু ভারতে এই গ্রহণ দৃশ্যমান নয়, তাই এর সূতক কালও এ দেশে কার্যকর হবে না। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, যেখানে গ্রহণ দেখা যায় না, সেখানে তার নেতিবাচক প্রভাবও পড়ে না।
সুতরাং, এই জোড়া গ্রহণ নিয়ে মনে কোনও সংশয় রাখার প্রয়োজন নেই। শিব ভক্তরা কোনও দ্বিধা ছাড়াই পুরো শ্রাবণ মাস জুড়ে তাঁদের ব্রত, উপবাস এবং মহাদেবের জলাভিষেক চালিয়ে যেতে পারেন। ভক্তি আর বিশ্বাসের জোরেই সমস্ত অশুভ শক্তিকে জয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন শাস্ত্রবিদরা।
