
সমগ্র দেশ জুড়ে আজ পালিত হচ্ছে মহা শিবরাত্রি, ভগবান শিব-এর আরাধনার বিশেষ রাত। ভক্তদের বিশ্বাস, এই রাতেই দেবাদিদেবের সঙ্গে শক্তির মিলন ঘটে। পঞ্জিকা মতে,তিথি শুরু হচ্ছে রবিবার বিকেলে চলবে সোমবার পর্যন্ত। তবে শিবরাত্রির আসল মাহাত্ম্য রাতেই। কারণ, শাস্ত্রে বলা হয়েছে—রাতের নির্জনতায় শিব আরাধনা সবচেয়ে ফলদায়ক। তাই সেই সময়তেই ভগবান শিবের আরাধনা করেন অনেকেই।
শিবলিঙ্গে জল ঢালার সঠিক সময় জানেন?
আজ সন্ধ্যা থেকেই মন্দিরে মন্দিরে ভিড় শুরু হবে। তবে সবচেয়ে শুভ সময় ধরা হয় নিশীথ কাল, রাত প্রায় ১২টা থেকে ১টার মধ্যে। এই সময়টিকে শিবতত্ত্ব জাগ্রত হওয়ার মুহূর্ত বলা হয়। অনেক ভক্ত চার প্রহরে পূজা করেন। মধ্যরাতের প্রহরেই শিবলিঙ্গে জল, দুধ, গঙ্গাজল ও বেলপাতা অর্পণ করা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়।
প্রথম প্রহর: সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত
দ্বিতীয় প্রহর: রাত ৯টা থেকে মধ্যরাত
তৃতীয় প্রহর: মধ্যরাত থেকে রাত ৩টা
চতুর্থ প্রহর: রাত ৩টা থেকে ভোর
কীভাবে পূজা করবেন?
ভোরে স্নান করে উপবাস রাখার রীতি চলে আসছে বহুযুগ ধরে। শিবলিঙ্গে প্রথমে পরিষ্কার জল ঢালুন, তারপর দুধ, আবার জল। বেলপাতা উল্টো না দিয়ে সোজা করে দিন। সঙ্গে জপ করুন—“ওঁ নমঃ শিবায়”
। অনেকে শিবের প্রিয় ধুতুরা ফুল ও ফলও অর্পণ করেন।
কেন এই রাত এত বিশেষ?
পুরাণ মতে, এই রাতেই শিব তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন। আবার অনেকের মতে, এই দিনেই শিব ও পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাই অবিবাহিত মেয়েরা ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশায় উপবাস রাখেন। বিবাহিতারা সংসারের মঙ্গল কামনায় মহা শিবরাত্রি ব্রত পালন করেন।
শিবরাত্রি মানে শুধু আচার পালনের দিন নয়, আত্মশুদ্ধিরও দিন। মন থেকে একবার ডাকলেই নীলকণ্ঠ সাড়া দেন—এটাই ভক্তদের বিশ্বাস। তাই সময় মেনে পূজা করুন ঠিকই, তবে ভক্তিভরে পুজো করাই আসল।