AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Pitru Paksha 2026: পিতৃপক্ষ চলছে, আজ তৃতীয়া! কেন তর্পণ করা জরুরি? কী বলছে পুরাণ?

Mahalaya 2026: পিতৃপক্ষ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ তৃতীয়া তিথি। কিন্তু কেন এই বিশেষ সময়ে তর্পণ করা এত জরুরি? এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে মহাভারতের এক অজানা কাহিনি। যাঁদের পূর্বপুরুষের মৃত্যুর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানা নেই, তাঁরা কবে এই আচার পালন করবেন? পিতৃপক্ষের সমস্ত নিয়মকানুন বিস্তারিত জেনে নিন।

Pitru Paksha 2026: পিতৃপক্ষ চলছে, আজ তৃতীয়া! কেন তর্পণ করা জরুরি? কী বলছে পুরাণ?
কী বলছে শাস্ত্র?
| Updated on: Sep 29, 2026 | 8:11 AM
Share

গত ২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণিমা তিথির মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে পিতৃপক্ষ। আজ, ২৯ সেপ্টেম্বর তৃতীয়া তিথি। ব্যস্ত রোজনামচার মাঝেও এই ১৫টি দিন মানুষকে নিজের শিকড়ের কথা মনে করায়। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় পূর্বপুরুষরা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাই ভক্তি ভরে তাঁদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও দান-ধ্যান করলে পূর্বপুরুষের আত্মা শান্তি পায়। জীবনে ফেরে সুখ ও সমৃদ্ধি। কিন্তু তর্পণ ঠিক কেন করা হয়? এর নেপথ্যে আসল পৌরাণিক কাহিনিটি কী?

কী বলছে শাস্ত্র?

পিতৃপক্ষের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারতের দাতা কর্ণের কথা। জীবিত অবস্থায় তিনি প্রচুর সোনা-দানা দান করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পর স্বর্গে গেলে দেবরাজ ইন্দ্র তাঁকে খাবারের বদলে প্রচুর ধনরত্ন দেন। অবাক হয়ে এর কারণ জানতে চান কর্ণ। তখন ইন্দ্র জানান, আজীবন ধনসম্পদ দান করলেও পিতৃপুরুষের উদ্দেশে কর্ণ কখনও অন্ন বা জল অর্পণ করেননি। কর্ণ জানান, নিজের জন্মবৃত্তান্ত না জানার কারণেই তাঁর দ্বারা এই অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। ভুল শুধরে নিতে দেবরাজ ইন্দ্র তাঁকে ১৫ দিনের জন্য ফের মর্ত্যে পাঠান। মর্ত্যে ফিরে পিতৃপুরুষকে অন্ন ও জল দেন তিনি। পুরাণ মতে, সেই থেকেই পিতৃপক্ষের সূচনা হল।

তর্পণ কথার মূল অর্থ তৃপ্ত করা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে আত্মারা মায়াবশে পৃথিবীতে আটকে থাকেন, তিল ও জল অর্পণের মাধ্যমে তাঁদের তৃপ্ত করাই হল তর্পণ। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই সময়ের অভাবে নিয়মের খুঁটিনাটি পালন করতে পারেন না। তবে শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, পিতৃপক্ষের এই দিনগুলিতে নিষ্ঠাভরে শুধু জল অঞ্জলি দিলেও পিতৃপুরুষরা সন্তুষ্ট হন। এতে জীবনে কোনও নেতিবাচক প্রভাব থাকলে তা কেটে যায়। অনায়াসেই মোচন হয় পিতৃদোষ।

পঞ্জিকা মতে, আগামী ১০ অক্টোবর পালিত হবে সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া। ওই দিনই পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর তৃতীয়া তিথির শ্রাদ্ধ। এরপর ধাপে ধাপে ৩০ সেপ্টেম্বর চতুর্থী ও পঞ্চমী, ১ অক্টোবর ষষ্ঠী, ২ অক্টোবর সপ্তমী, ৩ অক্টোবর অষ্টমী, ৪ অক্টোবর নবমী এবং ৫ অক্টোবর দশমী তিথির শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী দিনগুলিতে একাদশী থেকে চতুর্দশী পর্যন্ত আচার পালনের পর ১০ অক্টোবর মহালয়ায় তর্পণের মাধ্যমে এই পবিত্র পক্ষের সমাপ্তি ঘটবে। তবে যাঁদের পূর্বপুরুষের মৃত্যুর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানা নেই, তাঁরা মহালয়ার দিন নির্দ্বিধায় এই আচার পালন করতে পারেন। স্নান করে তর্পণ করার পর সাধ্যমতো দানধ্যান করারও বিশেষ রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস, এতে পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ সব সময় সঙ্গে থাকে, আর জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়ে যায়।

Follow Us