উপোস করে পুজো করা কি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল? শাস্ত্র বলছে…
উপোসের বৈজ্ঞানিক দিকও রয়েছে।National Institute on Aging-এর রিপোর্টে intermittent fasting বা বিরতিযুক্ত উপবাসের ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে—এটি মেটাবলিক হেল্থ উন্নত করতে সাহায্য করে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়। ব্রত বা নির্দিষ্ট সময় উপবাসের কারণে ধ্যান, প্রার্থনা বা মাইন্ডফুলনেস চর্চা সহজ হয়। এটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং স্ট্রেস-হরমোনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।

ঘরে ঘরে মহিলাদের মধ্যে উপবাসের চল রয়েছে। পরিবার সংসারের মঙ্গল কামনায় বহু মহিলা ব্রত করে থাকেন। কেউ পালন করেন প্রতি সপ্তাহে, আবার কেউ বছরের নির্দিষ্ট কোনও দিনে। তবে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে আদপেও কী এর পিছনে কোনও কারণ রয়েছে? উপবাস বা ব্রত প্রাচীন ভারতীয় জীবনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও অনেকেই শুধু ধর্মীয় রীতি হিসেবেই পালন করেন ব্রত, শাস্ত্র ও আধুনিক বিজ্ঞান ব্রত ও উপোস উভয়ের ক্ষেত্রেই উপোস শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উপকারিতার কথা বলে।
কী বলছে শাস্ত্র?
ভগবদ্গীতা (৬.১৬) তে বলা হয়েছে, “অতিরিক্ত ভোজন যোগের বাধা।” অর্থাৎ, শারীরিক সংযম ও মনের স্থিতি অর্জনের জন্য অপ্রয়োজনীয় খাবার না খাওয়া যোগ চর্চার একটি অংশ। শাস্ত্র বলছে, ব্রত মানে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা মানসিক স্থিরতা অর্জন করা ও মনের অপ্রয়োজনীয় প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
আবার হিন্দু দর্শনে ব্রতকে মনের নিয়ন্ত্রণের উপায় বলা হয়। উপবাসের মাধ্যমে মনকে শান্ত ও একাগ্র রাখা হয়, যা দেহ ও মন দুইই ভাল রাখে।
উপোসের বৈজ্ঞানিক দিকও রয়েছে।National Institute on Aging-এর রিপোর্টে intermittent fasting বা বিরতিযুক্ত উপবাসের ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গিয়েছে—এটি মেটাবলিক হেল্থ উন্নত করতে সাহায্য করে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়। ব্রত বা নির্দিষ্ট সময় উপবাসের কারণে ধ্যান, প্রার্থনা বা মাইন্ডফুলনেস চর্চা সহজ হয়। এটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং স্ট্রেস-হরমোনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
উপবাস বা ব্রতকে শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতি নয়। শাস্ত্রিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে উপবাস বা ব্রত ভীষণভাবে সাহায্য করে, এবং আধুনিক বিজ্ঞানেও বলা রয়েছে মাঝে মাঝে এগুলো পালন করলে শরীর ভাল থাকে। শরীর মন স্থির রাখাই এর সফলতা, যা জীবনে পজিটিভ থাকতে সাহায্য করে।
