
হাতের তালুতে বিশেষ রেখা থাকলেই নাকি জীবনে আসে অর্থ, বাড়ি, গাড়ি আর বিলাসিতা? হস্তরেখা বিচার বা করতল শাস্ত্রে বিভিন্ন রেখাকে ঘিরে এমন ব্যাখ্যা রয়েছে। কী বলছে জ্যোতিষ শাস্ত্র? প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ সমুদ্র শাস্ত্র-এ হাতের বিভিন্ন রেখার বিশদ বর্ণনা রয়েছে। সেখানে মূলত তিনটি রেখাকে আর্থিক উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়—ভাগ্য রেখা, সূর্য রেখা ও ধন-সংক্রান্ত চিহ্ন।
কীভাবে নিজের হাত দেখবেন? কোন হাত দেখবেন?
শাস্ত্রে সাধারণত ডান হাতকে কর্মফল ও বর্তমান জীবনের প্রতিফলন ধরা হয় (ডানহাতি হলে)। বাঁ হাত বোঝায় জন্মগত প্রবণতা। তাই দুহাতই মিলিয়ে দেখাই ভালো।
সূর্য রেখা খুঁজুন (অ্যাপোলো রেখা)
অনামিকার নীচের অংশের দিকে যদি একটি সোজা, স্পষ্ট উল্লম্ব রেখা উঠে যায়, তাকে সূর্য রেখা বলা হয়। শাস্ত্রমতে এই রেখা যদি স্পষ্ট হয় এবং কোনও ভাঙা না থাকে তাহলে সম্মান, সাফল্য ও আর্থিক স্বচ্ছলতার সম্ভাবনা থাকে।
ভাগ্য রেখা পরীক্ষা করুন
হাতের নীচের দিক (কব্জির কাছ থেকে) যদি একটি রেখা উঠে মধ্যমার দিকে যায়, সেটাই ভাগ্য রেখা। এটি পরিষ্কার হলে কর্মজীবনে স্থিতি ও উন্নতির ইঙ্গিত বলে ধরা হয়।
একাধিক উল্লম্ব রেখা আছে কি?
করতল শাস্ত্র মতে, তালুর নীচের অংশে যদি একাধিক সমান্তরাল উল্লম্ব রেখা থাকে, তা হলে আয়ের একাধিক উৎস বা সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে।
রেখা ভাঙা না অটুট?
রেখা যদি মাঝখানে কাটা, দ্বিখণ্ডিত বা খুব হালকা হয়, শাস্ত্র মতে ফল দুর্বল হয়। স্পষ্ট, গাঢ় ও সোজা রেখাকেই শুভ বলে ধরা হয়। শাস্ত্রের ব্যাখ্যায়, ঐশ্বর্য মানে শুধু টাকা নয় সম্মান, স্থিতি ও স্বাচ্ছন্দ্যও এর অংশ। সূর্য রেখা, ভাগ্য রেখা ও হাতের সামগ্রিক গঠন মিলিয়েই বিচার করা হয় ভাগ্য। তবে রেখা সম্ভাবনার কথা বলে। বাস্তব ফল গড়ে ওঠে আপনার পরিশ্রম, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।