
বাড়িতে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করার আগে অনেকেই প্রশ্ন করেন ঠিক কোন দিকে রাখলে শাস্ত্রসম্মত হবে? কারণ শিব-এর আরাধনায় দিকনির্দেশের গুরুত্ব নিয়ে বহু পুরাণ ও বাস্তুশাস্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। ভুল দিকে স্থাপন করলে পুজোর ফল কমে যায় এমন বিশ্বাস করেন অনেকেই।
বৈদিক ধারণা অনুযায়ী, শিবলিঙ্গ উত্তরমুখী বা পূর্বমুখী স্থাপন করা সবচেয়ে শুভ। অর্থাৎ শিবলিঙ্গ এমনভাবে রাখতে হবে যাতে ভক্ত পূর্ব বা উত্তর মুখ করে পুজো করতে পারেন। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, উত্তর দিককে কুবেরের দিক এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির দিক হিসেবে ধরা হয়। আবার পূর্ব দিক সূর্যোদয়ের দিক আলো, জ্ঞান ও শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তাই এই দুই দিকেই শিবলিঙ্গ স্থাপন করলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে বলে মনে করা হয়।
বাস্তুশাস্ত্র মতে, ঠাকুর ঘর বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে হওয়া উচিত। এই কোণকে ঈশান কোণ বলা হয়, যা শিবেরই দিক বলে বিবেচিত। ঈশান কোণে শিবলিঙ্গ স্থাপন করলে মানসিক শান্তি, সংসারে স্থিতি ও আর্থিক উন্নতি হয়—এমন বিশ্বাস রয়েছে। অনেক পুরাণেও ঈশান দিককে শিবতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি শিবলিঙ্গ কখনই সরাসরি মেঝের ওপর রাখা উচিত নয়। পাথর, ধাতু বা মার্বেলের একটি পরিষ্কার পাট বা বেদির ওপর স্থাপন করতে হয়। এবং বেদির নিচে যেন কোনো নোংরা বা অশুচি জিনিস না থাকে। পুজোর স্থান সবসময় পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আরেকটি শাস্ত্রীয় নিয়ম হল শিবলিঙ্গের ঠিক সামনে যেন বাথরুম বা রান্নাঘর না থাকে। আগুন ও জলতত্ত্বের ভারসাম্য রক্ষা করার কথাও বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়েছে। তাই পুজোর জায়গা নিরিবিলি ও পবিত্র হওয়া উচিত।
অনেকে আবার প্রশ্ন করেন, শোবার ঘরে শিবলিঙ্গ রাখা যায় কিনা? শাস্ত্রমতে, সম্ভব হলে শোবার ঘরে স্থায়ী শিবলিঙ্গ রাখা উচিত নয়। গৃহস্থের পক্ষে যদি প্রতিদিন শুদ্ধাচারে পূজা করা সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট আকারের প্রতীকী লিঙ্গ বা শিবের ছবি রাখা যেতে পারে।
শিবলিঙ্গ উত্তর বা পূর্বমুখী স্থাপন, ঈশান কোণে ঠাকুর ঘর রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—এই তিনটি বিষয় মানলে গৃহে শিবের কৃপা বজায় থাকে বলেই বিশ্বাস ভক্তদের।