Maha Shivratri 2026: শিবরাত্রিতে মহাদেব ছাড়াও কোন দেবতার পুজো করবেন?
বাস্তুশাস্ত্র মতে, ঠাকুর ঘর বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে হওয়া উচিত। এই কোণকে ঈশান কোণ বলা হয়, যা শিবেরই দিক বলে বিবেচিত। ঈশান কোণে শিবলিঙ্গ স্থাপন করলে মানসিক শান্তি, সংসারে স্থিতি ও আর্থিক উন্নতি হয়—এমন বিশ্বাস রয়েছে। অনেক পুরাণেও ঈশান দিককে শিবতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

শিবরাত্রি মানেই সারারাত জেগে থাকা, উপবাস, জপ আর মহাদেবের আরাধনা। কিন্তু শাস্ত্র বলছে, এই তিথি কেবলমাত্র শিবের পুজোর দিন নয়। বরং এটি শিব-শক্তির মিলনের রাত। তাই মহাশিবরাত্রিতে মহাদেবের পাশাপাশি আরও কয়েকজন দেবতার আরাধনার কথাও উল্লেখ রয়েছে বিভিন্ন পুরাণে।
প্রথমেই আসেন দেবী পার্বতী। শিবপুরাণে বলা হয়েছে, শক্তি ছাড়া শিব নির্জীব। পার্বতী হলেন সেই শক্তির প্রতীক। অনেক পুরাণকথায় উল্লেখ আছে, এই রাত্রিতেই শিব ও পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাই শিবরাত্রিতে পার্বতীর পুজো করলে দাম্পত্য সুখ, সংসারে স্থিতি এবং মানসিক শান্তি লাভ হয় এমন বিশ্বাস বহু শৈব ভক্তের মধ্যে প্রচলিত। বিশেষ করে বিবাহিত দম্পতিরা এই দিনে একসঙ্গে শিব-শক্তির আরাধনা করেন।
এরপর আসে গণেশের কথা। তিনি শিব-পার্বতীর পুত্র এবং বিঘ্ননাশক। যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে গণেশ বন্দনা করা প্রথাসিদ্ধ। শাস্ত্রমতে, শিবরাত্রির পুজো শুরুর আগেও গণেশের স্মরণ করা উচিত। এতে পুজোর সমস্ত বাধা দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
কার্তিকের নামও অনেক স্থানে উল্লেখ করা হয়। তিনি শিবের আর এক পুত্র এবং বীরত্বের প্রতীক। বিশেষত দক্ষিণ ভারতে শিবরাত্রির পুজোয় কার্তিকেয়ের আরাধনার রীতি রয়েছে।
নন্দীর কথাও আলাদা করে বলতে হয়। নন্দী কেবল শিবের বাহন নন, তিনি শিবের অনুগত ভক্ত। বহু শৈব মন্দিরে দেখা যায়, ভক্তরা নন্দীর কানে নিজেদের মনের ইচ্ছা বলেন। বিশ্বাস করা হয়, নন্দী সেই বার্তা শিবের কাছে পৌঁছে দেন। তাই শিবরাত্রিতে নন্দীর প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনেক পুরাণে শিব ও বিষ্ণুর ঐক্যের কথা বলা হয়েছে। শিবপুরাণ ও অন্যান্য গ্রন্থে উভয় দেবতার পরস্পরের প্রতি ভক্তির উল্লেখ রয়েছে। তাই কিছু ভক্ত এই দিনে বিষ্ণুর নামজপও করেন। এতে শৈব ও বৈষ্ণব ধারার ঐক্যের বার্তা প্রতিফলিত হয়।
সব মিলিয়ে শিবরাত্রি কেবল মহাদেবের আরাধনার দিন নয়, তবে মূল আরাধ্য শিবই। অন্য দেবতার পুজো তাঁরই পরিবার ও শক্তির অংশ হিসেবে করা হয়। শাস্ত্র মতে, শিব-শক্তির একত্র আরাধনাই শিবরাত্রির পূর্ণতা।
