
কলকাতা : বলটা বাউন্ডারি ছুঁতেই হেলমেট খুলে আকাশের দিকে তাকালেন। তারপর জড়িয়ে ধরলেন সতীর্থকে। আর তারপর? নির্লিপ্ত মুখে হেলমেট পরে আবার স্টান্স নিলেন পরের বল খেলার জন্য। কে বলবে , কয়েক মুহূর্ত আগেই নিজের দেশকে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন কেরলের যুবক অ্যারন জর্জ? হারারেতে বুধবার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও আফগানিস্তান। ফয়জল ও উজাইরউল্লার শতরানে ভর করে আফগানরা পৌঁছে যায় ৩১০ রানের বিশাল পাহাড়ে। যে রান নয় ওভার বাকি থাকতেই তুলে ফেলল ভারতের যুব দল। আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ২০২৪ এর পর আবার যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠল ভারতীয় দল।
ক্রিকেট বিশ্ব এর আগে দেখেছে অ্যারন ফিঞ্চকে। ভারতীয় ক্রিকেট দেখেছে বরুন অ্যারনকে। আজ যুব বিশ্বকাপে জন্ম হল আর এক অ্যারনের— অ্যারন জর্জ। হারারের মাঠে প্রথমে ভারতীয় ক্রিকেটের ‘বিস্ময় বালক’ বৈভব সূর্যবংশীকে সঙ্গী করে শুরু করেছিলেন আফগান সংহার। বৈভব করলেন ৩৩ বলে ৬৮। দলের অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রেও রান পেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৫৯ বলে ৬২ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস। কিন্তু সব আলো নিজের দিকে টেনে আনলেন অ্যারন। ১০৪ বলে করলেন ১১৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। যা সুসজ্জিত ১৫টি বাউন্ডারি ও ২টি বিশাল ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। পরিবর্ত ফিল্ডার নাফিজউল্লা আমিরির হাতে ক্যাচ তুলে যখন তিনি ফিরছেন, ততক্ষনে ভারত ফাইনালের রাস্তায় হাঁটা শুরু কিরে দিয়েছে।
অ্যারনের উত্থান বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিতে বিহারের বিরুদ্ধে ৩০৩ নট আউটের ইনিংস থেকে। এবি ডি ভিলিয়ার্সের ভক্ত এই ক্রিকেটারের জন্ম কেরলে হলেও লেখাপড়া থেকে বেড়ে ওঠা— সবই হায়দ্রাবাদে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের পঞ্চম সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারী ব্যাটার হন তিনি। এই বিশ্বকাপে আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করেছেন ১১৮ রান নট আউটের একটি ইনিংস। এবার সেমিফাইনালে খেললেন ম্যাচ জেতানো ইনিংস, যা ভারতকে পৌঁছে দিল বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে। এর আগে ভারত যুব বিশ্বকাপ জিতেছে ৫ বার, রানার্স হয়েছে ৪ বার। শেষবার ইংল্যান্ডকেই হারিয়েছিল যশ ধুলের ছেলেরা। শুক্রবার সেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই চার বছর পর অন্য একটি ফাইনালে নামবে ভারত। তার আগে সেমিফাইনালে এইরকম একপেশে জয় চনমনে রাখবে ভারতীয় দলকে।