
কলকাতা: দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে কি সেমিফাইনালের রাস্তা কঠিন করে ফেলল ভারত? এই প্রশ্ন কিন্তু প্রবলভাবে উঠছে। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে কেন খেলানো হল ওয়াশিংটন সুন্দরকে? কেন একাদশে জায়গা পেলেন না অক্ষর প্যাটেল? এই প্রশ্ন নিয়ে কাটাছেঁড়া তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে চর্চা চলছে। এর মধ্যে আবার সুনীল গাভাসকরের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটার বলে দিয়েছেন, অবিলম্বে অক্ষরকে দলে ফেরাতে হবে। না হলে চাপে পড়ে যাবে সূর্যর দল। পরের ম্যাচ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচে জিততে যেমন হবে, তেমনই রান রেটও বাড়াতে হবে। জয়ে ফেরা তো বটেই, শেষ চারের অঙ্ক পরিষ্কার করতে না পারলে কিন্তু চাপে পড়ে যাবে ভারত।
কী বলছেন সানি? তাঁর স্পষ্ট কথা, জিম্বাবোয়ে টিমে দলে খুব বেশি বাঁ হাতি ব্যাটার নেই। সেটা মাথায় রেখেই একাদশে আবার অক্ষরকে ফিরিয়ে আনা দরকার। অর্শদীপেরপ জায়গায় ওকে খেলানো যেতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অর্শদীপ এত ভালো বোলিং করেছে যে, ওর মতো ছন্দে থাকা বোলারকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। সুন্দর সে ক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারে। ওকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাত্র দু’ওভার বল করেছে। ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেনি। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে চার ওভার বল করলেও উইকেট পায়নি। আমার মনে হয়, ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় নিশ্চিতভাবেই অক্ষর প্যাটেলকে খেলানো উচিত।’
প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টপ অর্ডার চরম ভাবে ব্যর্থ। অভিষেক শর্মা মাত্র ১৫ করেছেন। ঈশান কিষান ০ করে ফিরেছেন। তিন নম্বরে নেমে তিলক ভার্মাও ২ বল খেলে শূন্য করে ফিরেছেন। প্রশ্ন উঠছে, তিলক কেন ধরে খেললেন না? গাভাসকর বলেছেন, ‘তিলক স্মার্ট ব্যাটার। কিন্তু এই ম্যাচে ওর কাছে আরও বেশি কিছু আশা করেছিলাম। ঈশান প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যায়। তখন প্রয়োজনীয় রানরেট ছিল প্রায় ওভার প্রতি সাড়ে নয়ের মতো। ১৫ নয়। তিলকের ক্রিজে সময় কাটানো উচিত ছিল। অন্য প্রান্তে অভিষেক আগের দুটো ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছে। তাই দায়িত্ব ছিল তিলকের উপর। ক্রিজে টিকে থাকা, একটি জুটি গড়া এবং অন্তত প্রথম ছয় ওভার পার করে দেওয়া। সেটা করতে পারেনি। পাওয়ার প্লে-তে সব সময় ৭০ রান তুলতেই হবে, এমনটা নয়। ৫৫-৬০ রানও ভালো ভিত গড়ে দিতে পারত।’
উল্টো দিকে দক্ষিণ আফ্রিকানদের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন। সানির বক্তব্য, ‘ডেভিড মিলার আর ডেওয়াল্ড ব্রেভিস একটা চমৎকার জুটি তৈরি করেছিল। ওরা ভারতের বোলারদের উইকেট নেওয়ার সব পরিকল্পনাই ভেস্তে দিয়েছে। ভারতের বোলাররা আশা করছিল, মিলার বা ব্রেভিস কোনও ভুল করে নিজেরাই উইকেট ছুঁড়ে দেবেন। কিন্তু তারা সেটা করেনি। হিসেবি কষে ঝুঁকি নিয়েছে। পাওয়ার প্লে-তে তিনটি উইকেট পড়ে গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছিল। মিলারের গুজরাট টাইটান্সের হয়ে আমেদাবাদে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি কাজে লাগিয়েছে। আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে ব্রেভিস। মিলারের সঙ্গে ছক্কা মারার প্রতিযোগিতায় নামেনি। তরুণ ক্রিকেটাররা প্রায়ই সিনিয়রদের নকল করতে চায়। কিন্তু ব্রেভিস পরিণতবোধের পরিচয় দিয়েছে। এই জুটির কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫০-১৬০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারেনি ভারত।’