
কলকাতা: পাকিস্থান ক্রিকেট দলের টেস্ট কোচ হিসাবে মাত্র ৯ মাসের অভিজ্ঞতাকে “অত্যন্ত অপমানজনক” বলে ব্যাখ্যা করলেন জেসন গিলেসপি। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন পাকিস্থানের ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে এতটাই হতাশ যে, মাত্র ৯ মাসের মধ্য়েই দল পদত্য়াগ করতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের পাকিস্থানের লাল বলের কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। একই সময় সাদা বলের দায়িত্বে ছিলেন আফ্রিকান ব্য়াটার গ্য়ারি কার্স্টেন। তবে এই ‘ডুয়াল কোচ’ ব্যবস্থা বেশি দিন টেকেনি। অক্টোবরে কার্স্টেন পদত্যাগ করেন। ডিসেম্বরে গিলেসপি। কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল, পিসিবির সঙ্গে দুই কোচের তীব্র মতবিরোধ।
গিলেসপির অভিযোগ, কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই পিসিবি নিলসেনকে বরখাস্ত করে দেয়। নিলসেন ২০২৪ সালে পাকিস্তানের টেস্ট টিমের হাই পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ঠিক আগে হঠাৎ তাঁকে জানানো হয়, আর প্রয়োজন নেই! এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গিলেসপি সামাজমাধ্য়মে লেখেন, “আমি পাকিস্তান টেস্ট দলের কোচ ছিলাম। পিসিবি সিনিয়র দলের সহকারী কোচকে বাদ দিয়েছে আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই। প্রধান কোচ হিসেবে আমি এটার সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেছি। আরও কিছু বিষয় ছিল, যেগুলোর জন্য আমি অপমানিত বোধ করেছি।”
এতেই শেষ নয়, একটি সাক্ষাৎকারে গিলেসপি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমি পরিস্থিতি জানতাম। পাকিস্তান টিমে অল্প সময়ে অনেক কোচ বদলেছে। এক সময়ে মনে হত, ওরা কি আদৌ আমাকে কোচিং করতে দিতে চায়!” স্বল্প সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সাদা বলের কোচের দায়িত্ব সামলানোর পর গিলেসপির জায়গায় নেন আকিব জাভেদ। মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, গিলেসপি ও পিসিবির মধ্যে এখন আর্থিক মনোমালিন্য চলছে। গিলেসপির দাবি, তাঁর প্রাপ্য পারিশ্রমিক এখনও মেটানো হয়নি। অন্যদিকে পিসিবির বক্তব্য, চুক্তি অনুযায়ী চার মাসের নোটিস দেননি গিলেসপ।
গিলসপি বনাম পিসিবির এই দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। যা নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। তাতেই ঘি ঢেলেছেন গিলেসপি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পাক বোর্ডকে ধুয়ে দিয়ে। গিলেসপি মুখ খোলায় আরও কোণঠাসা হয়ে গিয়েছে পাক বোর্ড। পাকিস্তান ক্রিকেটে কোচিং পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক তালমেল নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।