
কলকাতা : আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। নামটা শুনলেই মনে পড়ে একটা দিন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৩। এই দিনেই ভারতের বিশ্বকাপ স্বপ্নের সলিল সমাধি হয়েছিল সবরমতি নদীর জলে। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলেন রোহিত-সিরাজরা। প্রায় আড়াই বছর পর সেই মাঠেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে নামতে চলেছে ভারত। রোহিত অবসর নিয়েছেন দু’বছর আগেই। সিরাজ চোটের জন্য আজ অনিশ্চিত। এসবের মধ্যেই ২০২৪ ফাইনালের বদলা নিতে ভারতের সামনে নামবে প্রোটিয়ারা।
যাঁকে সবথেকে বেশি ভরসা করা হয়েছিল, সেই অভিষেক শর্মা তিন ম্যাচেই ব্যর্থ। গ্ৰুপ পর্বে খেলেছেন মাত্র ৮ বল। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে নজর থাকবে তাঁর দিকে। যতই ভারতীয় দল তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ না দেখাক, সমর্থকরা ইতিমধ্যেই চিন্তায় অভিষেকের ফর্ম নিয়ে। ভারতীয় কোচ মর্নি মর্কেল জানিয়েছেন, আপাতত সঞ্জু স্যামসনকে হয়ত বেঞ্চেই থাকতে হতে পারে। সুতরাং, আগামী ম্যাচেও তিনি বাইরেই থাকবেন। তিলক ভার্মার স্লো ব্যাটিং নিয়ে যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সূর্য। তিনি এই নিয়ে চিন্তিতই নন। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে অক্ষর পটেলের বদলে সুযোগ পেয়েছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হয়ত তিনিই শুরু করতে পারেন। অভিষেক ফ্যাক্টর সরিয়ে রাখলেও ভারতের বড় দায় এখন ফিল্ডিং। আজকের ম্যাচের আগে গ্ৰুপ লিগে ৯ বার ক্যাচ ফেলেছে ভারতীয় দল। সুপার এইটেও এইভাবেই ক্যাচ ফেললে কপালে দুর্ভোগ রয়েছে ভারতের। উল্টোদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা চাইবে শুরু থেকেই স্পিনকে গুরুত্ব দিতে। ভারত ইনিংসে প্রথম ওভারেই অধিনায়ক আইডেন মার্কক্র্যামকে বল হাতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আহমেদাবাদে তিন ম্যাচ খেলার সুবাদে পরিবেশের সঙ্গে যথেচ্ছ মানিয়ে নিয়েছে প্রোটিয়ারা। এই ‘ব্ল্যাক সয়েল’ই হতে পারে তাদের বদলার মূল অস্ত্র। পেসার হিসেবে শুরু করতে পারেন বুমরা এবং অর্শদীপ। দক্ষিণ আফ্রিকা দলেও রয়েছে জর্জ লিন্ডে ও কেশব মহারাজের মতো স্পিনার, যাঁরা যেকোনও জায়গা থেকে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেন।
আজকের পর ভারতের পরবর্তী ম্যাচ চেন্নাইতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। তার আগে আজকের ম্যাচে প্রবল ভাবে রানে ফিরতে চাইছেন অভিষেক। হয়ত, একটি ইনিংসেই বদলে যাবে তাঁর অফ ফর্মের ভাগ্য। নাহলে, সঞ্জু কীই বা দোষ করেছেন? তাঁকেও একটা সুযোগ দেওয়াই যেতে পারে।