
কলকাতা : তাঁর ব্যাটিং দেখে মনেই হচ্ছে না, গত ম্যাচের ২৯৯ রানের মাথায় আউট হয়ে যাওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত তিনি। উল্টে, যেভাবে সুদীপ আজ সেঞ্চুরি করে হাসি মুখে ড্রেসিংরুমের দিকে তাকালেন, এক ঝলক দেখলে মনে হতেই পারে, বঙ্গ ব্রিগেডকে ফাইনালে তোলার গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। এই প্রথম রঞ্জির শেষ চারে জম্মু-কাশ্মীর। ম্যাচের আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বাংলার খেলোয়াড়রা। গ্ৰুপ পর্বে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর কোয়ার্টারে একপ্রকার একপেশে জিতেছেন অনুষ্টুপ মজুমদাররা। এই ম্যাচ জিতলে ৩ বছর পর আবার ফাইনাল খেলবে বাংলা।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জম্মু। কল্যাণীর এই মাঠেই সেমিফাইনালে নেমেছে বাংলা। রানের খরা এখনও চলছে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের। আজ ০ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তিনি। অধিনায়ক অভিমণ্যু ঈশ্বরণকে ৪৯ রানের মাথায় বোল্ড করলেন এই মুহূর্তে রঞ্জির সবথেকে চর্চিত বোলার আকিব নবি। নবি এখনও পর্যন্ত রঞ্জিতে ৪৫ উইকেট নিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে কার্যত একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশকে। আজ নিলেন দুই উইকেট। তাঁর দ্বিতীয় শিকার সুরজ সিন্ধু জয়সোয়াল। ৫ বল খেলে ০ রানে আউট হলেন সুরজ। অনুষ্টুপ মজুমদার আবার ফ্লপ। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১৪ রান। এরপর বাংলা ইনিংস সুদীপময়। ১৩৬ রানে খেলছেন সুদীপ। আজকের সেঞ্চুরি করে বাংলার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে কোয়ার্টার এবং সেমি, দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরির অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়লেন সুদীপ তিনি। দিনের শেষ বলে ৪২ রানে আউট হলেন শাহবাজ আহমেদ। দিনশেষে বাংলার স্কোর ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯।
উইকেটে ঘাস রয়েছে। পরের দিকে পিচ স্লো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলার হয়ে এরপরে ব্যাটিংয়ে নামবেন সুমন্ত গুপ্ত এবং হাবিব গান্ধী। গত ম্যাচেও অন্ধ্রর বিরুদ্ধে একসময় পিছিয়ে পড়েছিল বাংলা। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরে দল। এখনও বাকি চার দিন। জম্মু-কাশ্মীর যদি নবিকে নিয়ে ফাইনালে যাওয়ার আশায় থাকে, বাংলা তাকিয়ে থাকবে সামি-মুকেশের ওপর।